সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে। তবুও হুট করেই মনের ভেতর এক অদ্ভুত শূন্যতা ভর করে। তখন কিছু ভালো লাগে না। কী করব না করব ভেবে পাওয়া যায় না। পড়াশোনা, অফিসের ব্যস্ততা কিংবা পারিবারিক জীবন—সবকিছুতেই যেন একধরনের বিরক্তি, খিটখিটে মেজাজ।
চারপাশের চেনা জগৎটাকে হঠাৎ অচেনা মনে হয়, কোনো কিছুতেই মন বসে না। আমরা প্রায়ই বলে উঠি, ‘আজ কেন যেন কিছুই ভালো লাগছে না।’ এর উত্তর আমরা নিজেও খোঁজে পায় না। শুধু আমরা এ সময় ভালো না লাগার কারণ খোঁজতে যায়। কিন্তু আমরা সেই কারণ পায় না।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে এটিকে সাধারণ অলসতা বা সাময়িক মন খারাপ মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের রোজকার জীবনযাপনের কিছু অদৃশ্য মনস্তাত্ত্বিক কারণ। কেন কোনো কারণ ছাড়াই এই ‘কিছু ভালো না লাগার’ অনুভূতি গ্রাস করে।
ভালো না লাগাটা কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুভূতির পেছনে বড় কোনো দুঃখ বা ট্র্যাজেডি থাকার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই আমাদের অজান্তে মনকে বিষিয়ে তোলে।
ডিজিটাল ক্লান্তি বা ডোপামিন বার্নআউট : আমরা যখন সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক অতিরিক্ত মাত্রায় ‘ডোপামিন’ (সুখের হরমোন) নিঃসরণ করে। একসময় এই নিঃসরণ মাত্রারিক্ত হয়ে গেলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ কোনো কাজ, আড্ডা বা বিনোদন আর আমাদের আনন্দ দিতে পারে না।
একঘেয়েমির ফাঁদ : প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, একই রুটিনে কাজ করা এবং নতুন কোনো রোমাঞ্চ না থাকা মনকে স্থবির করে দেয়। এই একঘেয়েমি একসময় অবচেতন মনে তীব্র অনীহা তৈরি করে।
প্রচ্ছন্ন মানসিক চাপ : অনেক সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা বা অতীতের কোনো চাপা ক্ষোভ মনের গভীরে লুকিয়ে থাকে। আমরা হয়তো সাময়িকভাবে তা ভুলে থাকি, কিন্তু মস্তিষ্ক সেই স্ট্রেস বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ‘কিছু ভালো না লাগার’ মাধ্যমে।
শারীরিক উপাদানের ঘাটতি : অপর্যাপ্ত ঘুম, শরীরে ভিটামিন ডি (সূর্যের আলোর অভাব) বা ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার কারণে শরীরে অলসতা তৈরি হয়, যা সরাসরি মনের ওপর প্রভাব ফেলে।
সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়
এর থেকে পরিত্রাণের উপায়টি কিন্তু তেমন কঠিন কিছু নয়, এমনটাই মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। বারবার যে বিষয়ের ওপর তারা জোর দিয়েছেন তা হলো, সব সময় হাসিখুশি থাকা। একাকিত্ব এড়িয়ে চলতে হবে। ‘সব সময় চেষ্টা করুন কারও সঙ্গে মিশতে। হয়তো প্রথমে তাকে ভালো লাগবে না, কিন্তু একটা সময় পর দেখবেন যে নতুন বন্ধুটিকে আপনার ভালো লাগতে শুরু করেছে। সবচেয়ে উপকার হবে আপনার মনের।’
সুতরাং, মানুষের মন কোনো রোবট নয় যে সবসময় একই গতিতে চলবে। তাই মাঝেমধ্যে ‘কিছু ভালো না লাগা’ অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। এটিকে মনের এক ধরনের ‘বিশ্রামের ডাক’ হিসেবে নিন। মনকে জোর না করে কিছুটা সময় দিন, প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হোন এবং মনে রাখুন—এই সাময়িক মেঘ কেটে গিয়ে আবারও রোদ্দুর ফিরবে আপনার মনে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









