ঢাকার পুরান শহরের টিকাটুলিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা রোজ গার্ডেন প্যালেসে শুধু একটি পুরোনো প্রাসাদ নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
১৯৩১ সালে ধনী ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যে। গোলাপ বাগানে ঘেরা এই বাগানবাড়ি থেকেই এর নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’। পরে এটি একাধিকবার মালিকানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৩৩২ কোটি টাকায় অধিগ্রহণ করে সংরক্ষিত ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

কী দেখবেন রোজ গার্ডেনে?
রোজ গার্ডেন প্যালেসে প্রবেশ করলে আপনি দেখতে পাবেন—করিন্থীয় ও গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত দোতলা প্রাসাদ, প্রশস্ত হলরুম ও একাধিক ঐতিহাসিক কক্ষ, পুরোনো ফোয়ারার ধ্বংসাবশেষ, মার্বেলের মূর্তি ও প্রাচীন বাগানের অবশেষ ২২ বিঘা জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ।
একসময় যেটি গোলাপ বাগানে পরিপূর্ণ ছিল, সময়ের পরিবর্তনে সেই বাগানের অনেক অংশ এখন আর নেই—তবুও ইতিহাসের ছাপ এখনো স্পষ্ট।
সময়সূচি
শীতকাল (অক্টোবর–মার্চ) : সকাল ৯টা–বিকাল ৫টা
গ্রীষ্মকাল (এপ্রিল–সেপ্টেম্বর) : সকাল ১০টা–বিকাল ৬টা
রবিবার : বন্ধ
সোমবার : দুপুর ২টা থেকে খোলা থাকে।
টিকিট মূল্য
সাধারণ দর্শনার্থী : ৩০ টাকা
শিক্ষার্থী : ১০ টাকা (আইডি আবশ্যক)
১০ বছরের নিচে : ফ্রি
বিদেশি পর্যটক : ৪০০ টাকা
সার্কভুক্ত দেশ : ২০০ টাকা
কীভাবে যাবেন?
ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী হয়ে রিকশা বা সিএনজিতে সরাসরি টিকাটুলির কেএম দাস লেনে রোজ গার্ডেনে যাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে ‘হুমায়ূন সাহেবের বাড়ি’ বললেও অনেক রিকশাওয়ালা চিনে নেয়।

খাবারের সুযোগ
পুরান ঢাকায় ভ্রমণ মানেই খাবারের আনন্দ—হাজীর বিরিয়ানি, আল রাজ্জাক, বিউটি লাচ্ছি, হানিফ বিরিয়ানি সবই কাছাকাছি পাওয়া যায়।
কেন যাবেন?
রোজ গার্ডেন শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়—এটি ঢাকার ইতিহাস, রাজনীতি এবং স্থাপত্যের এক জীবন্ত দলিল। যারা ইতিহাস, ফটোগ্রাফি বা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি এক আদর্শ ভ্রমণস্থান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









