সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে অনেকেই বাসায় ফিরেই মোবাইল হাতে সোফায় বসে পড়েন, আবার কেউ রাত পর্যন্ত ল্যাপটপে কাজ চালিয়ে যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিস থেকে ফেরার পরের এক থেকে দুই ঘণ্টাই শরীর ও মনকে পুনরুজ্জীবিত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়টুকু সচেতনভাবে নিজের যত্ন নিলে ক্লান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি পরদিনের কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত বিশ্রাম, শারীরিক নড়াচড়া, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিজের জন্য কিছু সময় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কাজের চাপ থেকে মনকে আলাদা করুন
বাসায় ফিরেও যদি মাথায় মিটিং, ই-মেইল বা অসমাপ্ত কাজ ঘুরতে থাকে, তাহলে প্রকৃত বিশ্রাম পাওয়া যায় না। তাই বাসায় ফিরে একটি ছোট ‘ট্রানজিশন রুটিন’ তৈরি করুন। পোশাক বদলান, মুখ-হাত ধুয়ে নিন, কয়েক মিনিট নিরিবিলি বসুন বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে খোলা বাতাসে শ্বাস নিন। এতে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে কাজের সময় শেষ, এখন বিশ্রামের পালা।
এক গ্লাস পানি দিয়ে শুরু করুন
দিনভর ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। বাসায় ফিরেই এক বা দুই গ্লাস পানি পান করুন। চাইলে লেবু মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয় এবং ক্লান্তিও কমে।
হালকা ও স্বাস্থ্যকর নাশতা খান
অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতের খাবার খেলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তাই ফল, বাদাম, দই বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর হালকা নাশতা খেতে পারেন। এতে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়।
১৫–২০ মিনিট শরীরচর্চা করুন
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে পেশিতে চাপ পড়ে। তাই বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ হাঁটা, স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম করুন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, পেশির জড়তা কমে এবং মানসিক চাপও হ্রাস পায়।
কিছু সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন
অফিস শেষে আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অফিসের ই-মেইলে ব্যস্ত হয়ে পড়লে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না। অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এ সময় বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি উপকারী।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করা, সন্তানের সঙ্গে খেলা বা প্রিয়জনের খোঁজ নেওয়া মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন
প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট এমন কোনো কাজ করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয়। যেমন—বই পড়া, ছবি আঁকা, বাগান করা, রান্না, গান শোনা বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো। এসব শখ মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।
রাতের খাবার হোক পরিমিত
রাতের খাবারে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে কয়েক মিনিট হাঁটুন।
পরের দিনের পরিকল্পনা লিখে রাখুন
অসমাপ্ত কাজ নিয়ে বারবার চিন্তা না করে একটি নোটবুকে পরদিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিখে রাখুন। এতে মানসিক চাপ কমে এবং রাতে ভালো ঘুম হয়।
ঘুমের আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন
ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টেলিভিশন থেকে দূরে থাকুন। হালকা আলো, শান্ত পরিবেশ এবং নিয়মিত সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়িকে সঠিক রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম পরদিনের কর্মক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অফিসের দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা সচেতনভাবে নিজের জন্য সময় রাখলে ক্লান্তি কমবে, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং জীবন হবে আরও প্রাণবন্ত। নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার অপরিহার্য অভ্যাস।
সূত্র : হেলথলাইন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









