একটানা ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বসে থাকলে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানো বা অল্প হাঁটার মতো হালকা শারীরিক কার্যকলাপ এ ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অ্যান্ড্রু গ্রেগরির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশক ধরে ৯০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন কোনো এক সময়ে টানা ৩০ মিনিটের বেশি জেগে থাকা অবস্থায় বসে বা শুয়ে থাকলে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গবেষণার ফলাফল আরও ইঙ্গিত দেয়, একটানা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় কাটানো প্রতিটি অতিরিক্ত ঘণ্টার সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।
তবে গবেষকরা দেখেছেন, ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বসে থাকার মধ্যে বিরতি দিয়ে অল্প হাঁটা বা অন্য কোনো হালকা শারীরিক কার্যকলাপ করলে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাদের মতে, প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ানো কিংবা অফিসের ভেতরেই কয়েক মিনিট হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকার বয়ে আনতে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক, গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফ্রেডরিক হো বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা ৩০ মিনিটের বেশি সময় বসে থাকা ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সুখবর হলো, অল্প হাঁটার মতো সাধারণ শারীরিক নড়াচড়ার মাধ্যমে বসে থাকার সময়কে ভাগ করে নিলে এ ঝুঁকি কমতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় মূলত মাঝারি বা তীব্র ব্যায়ামের ওপর জোর দেওয়া হলেও, তাদের গবেষণা দেখিয়েছে যে হালকা শারীরিক নড়াচড়াকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ড. হোর মতে, ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকেন্দ্রিক কৌশল তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যা মানুষকে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস ভাঙতে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।
পিএলওএস মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই জেগে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে থাকার সঙ্গে হৃদরোগ এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্কের কথা জানা ছিল, গবেষকরা বলছেন, বসে থাকার সময় কীভাবে জমা হয় বা কতক্ষণ একটানা বসে থাকা হয়—সেটিও স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: গার্ডিয়ান


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









