বাংলাদেশের রূপের রানী রাঙ্গামাটির কোলে শান্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক অসাধারণ সুন্দর পাহাড়। বলছি ফুরমোন পাহাড় (Furomown Hill) এর কথা। প্রায় ১৫১৮ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়টি এখনও অনেক পর্যটকের ভিড় থেকে দূরে, আপন রূপে মহিমান্বিত। যারা প্রকৃতির সেরা রূপটি দেখতে চান এবং নিজেদের একটু চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত, তাদের জন্য ফুরমোন পাহাড় আদর্শ গন্তব্য।
একদিকে পুরো রাঙ্গামাটি শহরের দিগন্তজোড়া দৃশ্য, অন্যদিকে শান্ত কাপ্তাই লেকের হাতছানি—ফুরমন পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে আপনার সকল ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে যাবে। আজকের ভ্রমণ গাইডে এই পাহাড়ে ট্রেকিং এবং ভ্রমণের সম্পূর্ণ তথ্য জানাব।
ফুরমোন পাহাড়ে কি দেখবেন
ফুরমোন পাহাড় তার উচ্চতার জন্য বিখ্যাত। এটি রাঙ্গামাটির কম পরিচিত স্থান। ফলে পর্যটকের আনাগোনা কম থাকায় প্রকৃতি তার নিজস্ব সৌন্দর্য ধরে রেখেছে।
যারা ভোরে অথবা খুব সকালে পাহাড়ে ট্র্যাকিং করে চূড়ায় পৌঁছান, তারা এখানে মেঘের খেলা দেখতে পারবেন। পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি আপনার ভ্রমণকে এক অন্য মাত্রা দেবে। ফুরমোন পাহাড়ের চূড়া থেকে পুরো রাঙ্গামাটি শহর, বিশাল কাপ্তাই লেক এবং অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়ার একপাশে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান বা মন্দির, যা পাহাড়ের আধ্যাত্মিক আবহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ফুরমোন পাহাড়ে ট্রেকিং
ফুরমোন পাহাড়ের ট্রেকিং বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ এটি একটি ‘খারা পাহাড়’ হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ের নিচ থেকে চূড়ায় পৌঁছাতে সাধারণত ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ট্রেকিংয়ের অভ্যাসের ওপর এটি নির্ভর করে। রাস্তাটি বেশ আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু, যা আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে। পাহাড়ে উঠার পথে উপজাতিদের একটি পাড়ার দেখা পাবেন। ফুরমোন পাহাড়ের চূড়ায় আর্মি ক্যাম্প রয়েছে। মনে রাখবেন, আর্মি ক্যাম্পের ভিডিও বা ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আপনি কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিগত ভিডিও/ছবি ধারন করতে পারবেন।
কীভাবে যাবেন
ফুরমোন পাহাড়ে যেতে হলে প্রথমে রাঙ্গামাটি শহর আসতে হবে। ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে এভারগ্রিন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সেন্টমার্টিন হুন্ডাই (রবি এক্সপ্রেস) ও শ্যামলী পরিবহন এর এসি/নন-এসি বাসে রাঙামাটি আসতে পারবেন। ভাড়া লাগবে ৮৫০ থেকে ১৮০০ টাকা।
রাঙ্গামাটি যাওয়ার পথে মানিকছড়ি নামক জায়গায় নেমে যেতে হবে। এখান থেকেই ফুরমোন পাহাড়ে যাওয়ার সিএনজি পাওয়া যায়। সিএনজি ভাড়া নিবে ২০০-২৫০ টাকা। সিএনজি একদম পাহাড়ের নীচে নামিয়ে দিবে।
কোথায় খাবেন
পাহাড়ের উপরে কোনো দোকান বা খাবারের ব্যবস্থা নেই। উপজাতি পাড়ার পরে যে শেষ দোকানটি আছে, সেখান থেকে আপনাকে অবশ্যই খাবার পানি এবং শুকনো খাবার সাথে নিয়ে যেতে হবে। ট্রেকিং শেষে রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার বা আশেপাশে পছন্দ মত রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে নিতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
যদি রাতে রাঙ্গামাটিতে থাকার পরিকল্পনা থাকে, তবে রিজার্ভ বাজারের আশেপাশে অসংখ্য থাকার হোটেল পেয়ে যাবেন। ভাড়া লাগবে ৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকা।
দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতা: হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।
এছাড়াও ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন








