বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রিয় দল জিতলে আনন্দে ভাসেন সমর্থকেরা, আবার হারলে মন খারাপ, হতাশা এমনকি শূন্যতাও গ্রাস করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে একটি দলের জন্য অপেক্ষা, রাত জেগে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা—সবকিছুর পর হঠাৎ বিদায় বা পরাজয় অনেকের কাছেই ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো মনে হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, খেলাধুলার সঙ্গে আবেগের এই সংযোগ স্বাভাবিক। তবে সেই হতাশা যদি দীর্ঘ সময় ধরে মন-মেজাজ, কাজের আগ্রহ বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে তা সামলে নেওয়া জরুরি। কয়েকটি সহজ অভ্যাস দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করতে পারে।
হতাশাকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করুন
প্রিয় দলের হার মানেই মন খারাপ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে সময় দিন। দীর্ঘদিনের সমর্থন, আবেগ ও প্রত্যাশা থাকলে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকুন
পরাজয়ের পর ট্রল, মিম, তর্ক-বিতর্ক ও সমালোচনায় ভরে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বারবার এসব দেখলে হতাশা আরও বাড়তে পারে। তাই কয়েক ঘণ্টা বা একদিন বিরতি নিলে মন শান্ত থাকবে।
খেলাকে খেলার জায়গাতেই রাখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা আনন্দ ও বিনোদনের মাধ্যম। এটিকে নিজের পরিচয় বা আত্মসম্মানের সঙ্গে জড়িয়ে ফেললে পরাজয় অনেক বেশি কষ্ট দেয়। মনে রাখুন, একটি ম্যাচের ফল আপনার জীবন বা ব্যক্তিগত সাফল্য নির্ধারণ করে না।
প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান
মন খারাপের সময় একা না থেকে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। খেলা নিয়ে আড্ডা দিন, পুরোনো ম্যাচের স্মৃতি রোমন্থন করুন কিংবা অন্য বিষয়ে গল্প করুন। ইতিবাচক সামাজিক যোগাযোগ মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
নিয়মিত রুটিনে ফিরে আসুন
বিশ্বকাপের সময় অনেকেই রাত জাগেন, খাবারের সময় বদলে যায়, ঘুম কম হয়। টুর্নামেন্ট শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরুন। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার ও কাজের ছন্দে ফেরা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরচর্চা করুন
হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কর্মকাণ্ড শরীরে ‘ফিল-গুড’ হরমোন এন্ডোরফিনের নিঃসরণ বাড়ায়। এতে মন ভালো থাকে এবং হতাশা দ্রুত কমে।
সামনের টুর্নামেন্টের অপেক্ষায় থাকুন
বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফুটবল থেমে থাকে না। সামনে রয়েছে বিভিন্ন লিগ, মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট, কোপা আমেরিকা, ইউরো ও পরবর্তী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। প্রতিটি হারের পরই নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ আসে।
ইতিবাচক দিকগুলো দেখুন
একটি দলের পরাজয় মানেই সবকিছুর শেষ নয়। তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কিংবা টুর্নামেন্টের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন। এতে হতাশার বদলে আশাবাদী হওয়া সহজ হবে।
যদি খেলার ফলের কারণে কয়েক দিন ধরে মন খারাপ থাকে, কাজ করতে ইচ্ছা না করে, ঘুমের সমস্যা হয় বা অতিরিক্ত রাগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।
বিশ্বকাপের আবেগ কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাই প্রিয় দলের হার কষ্ট দিতেই পারে। তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—পরাজয়ের পরও আবার ঘুরে দাঁড়ানো। সমর্থকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আজকের হতাশাই আগামী টুর্নামেন্টে নতুন আশার জন্ম দিতে পারে।
সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, সাইকোলজি টুডে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









