বর্ষাকালে বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি বাংলাদেশের একটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রতি বছর বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ঝড়ের কারণে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়ের সময় ঘরের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান অনুযায়ী কিছু নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঘরের ভেতরে যা করবেন
ঝড় শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব একটি পাকা ও নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন। ঘরের জানালা, কাচের দরজা বা বারান্দার কাছাকাছি না থেকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। প্রবল বাতাসে কাচ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বজ্রপাতের সময় টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখুন। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলে বজ্রপাতের প্রভাবে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। এ সময় লোহার দরজা-জানালা, ধাতব বস্তু, পানির কল, পাইপ বা অন্যান্য প্লাম্বিং ফিক্সচার স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। বজ্রপাতের সময় এসব ধাতব বস্তু বিদ্যুৎ পরিবাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।
বাইরে থাকলে যা করবেন
যদি ঝড়ের সময় বাইরে অবস্থান করেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ ভবন বা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। কোনো অবস্থাতেই বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিলবোর্ড বা উঁচু স্থাপনার নিচে দাঁড়াবেন না। প্রবল বাতাসে এগুলো ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খোলা মাঠ, উঁচু স্থান কিংবা নদী, খাল বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান করাও ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাতের সময় এসব স্থানে থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেক বেশি। মোটরসাইকেল, সাইকেল বা অন্যান্য খোলা যানবাহনে থাকলে দ্রুত নেমে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন। ঝড় ও বজ্রপাতের সময় এসব যানবাহনে অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। ঝড়ের সময় অযথা বাইরে বের না হওয়া, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে রাখা এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকা দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য কিছু সতর্কতা ও সচেতনতাই ঝড় ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









