রাগ মানুষের স্বাভাবিক ও মৌলিক অনুভূতি। বিপদ থেকে আত্মরক্ষা, সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক নিয়মকানুন বজায় রাখতে বিবর্তনের ধারায় এই আবেগ মানুষের মস্তিষ্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে রাগ যখন তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে, তখন তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাগের মুহূর্তে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ রসায়ন ও কার্যপ্রণালিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এ প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের তিনটি অংশ এবং কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাগ যেভাবে মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করে
মস্তিষ্কের বাদাম আকৃতির অংশ অ্যামিগডালা অ্যালার্ম বা সতর্কঘণ্টার মতো কাজ করে। আমরা কোনো হুমকির সম্মুখীন হলে অ্যামিগডালা দ্রুত বিপদসংকেত পাঠায়। এরপর হাইপোথ্যালামাস স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে। ফলে অ্যাড্রেনালিন, নর-অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়, রক্তচাপ বাড়ে, পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত ও অগভীর হয়ে আসে।
অন্যদিকে, কপালের ঠিক পেছনে অবস্থিত প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স যুক্তি, বিচারবুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অ্যামিগডালা হুট করে রেগে ওঠার সংকেত দিলে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
সমস্যা হয় যখন রাগের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। তীব্র রাগের সময় অ্যামিগডালা দ্রুত মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং যুক্তিভিত্তিক প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে মানুষ রাগের মাথায় এমন কিছু করে বা বলে ফেলতে পারেন, যার জন্য পরে অনুশোচনা করতে হয়।
চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্তে রাগের প্রভাব
রাগ মানুষের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও চিন্তাভাবনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। রাগান্বিত মানুষ বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কোনো কাজের ক্ষতিকর পরিণতি সম্পর্কে ভুল হিসাব করতে পারেন।
রাগ মানুষকে তুলনামূলকভাবে বেশি সাহসী কিংবা বেপরোয়া করে তুলতে পারে। এ ছাড়া রেগে থাকা অবস্থায় মানুষ অন্যের ওপর দোষ চাপাতে বেশি পছন্দ করেন এবং বাইরের মানুষ বা দলের প্রতি অতিরিক্ত আস্থাহীন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পারেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









