রাগ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। তবে পুরুষ নাকি নারী—কার রাগ বেশি, তা নিয়ে সমাজে নানা ধারণা রয়েছে। সাধারণত পুরুষদের বেশি রাগী মনে করা হলেও গবেষণায় দেখা যায়, রাগ অনুভবের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য এতটা স্পষ্ট নয়। বরং পার্থক্য বেশি দেখা যায় রাগ প্রকাশের ধরনে।
গবেষণা অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ উভয়েই প্রায় সমান ঘন ঘন এবং সমান তীব্রতায় রাগ অনুভব করতে পারেন। তবে পুরুষেরা রাগকে বাইরে প্রকাশ করে আগ্রাসী আচরণে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখান। অন্যদিকে, নারীরা রাগের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ বা সংবরণে তুলনামূলক বেশি সক্ষম হতে পারেন। সাধারণত সমাজে ধরে নেওয়া হয় যে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে বেশি রাগী।
রাগের সময় মস্তিষ্কে কী ঘটে
রাগের মতো আবেগ তৈরিতে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে। বিশেষ করে অ্যামিগডালা হুমকি বা উত্তেজনামূলক পরিস্থিতিতে দ্রুত সক্রিয় হয়। একই সময়ে অরবিটাল ফ্রন্টাল কর্টেক্সের মতো মস্তিষ্কের অংশ আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আচরণে ‘ব্রেক’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
তীব্র রাগের সময় মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে রাগের বশে বলা বা করা কোনো কাজের জন্য পরে অনুশোচনা হতে পারে।
কেন পুরুষদের বেশি রাগী মনে হয়
পুরুষদের মধ্যে বাহ্যিক আগ্রাসন বেশি দৃশ্যমান হওয়ায় তাদের বেশি রাগী মনে হতে পারে। কিন্তু রাগ অনুভব করা এবং রাগ প্রকাশ করা এক বিষয় নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রাগের অনুভূতি থাকতে পারে; সামাজিক পরিবেশ ও আচরণগত প্রত্যাশার কারণে সেটি প্রকাশের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
তাই শুধু বাইরে রাগ প্রকাশের মাত্রা দেখে পুরুষ বা নারী—কোনো একটি পক্ষকে বেশি রাগী বলা ঠিক নয়। ব্যক্তিভেদে রাগের মাত্রা, কারণ ও প্রকাশের ধরনও ভিন্ন হতে পারে।
রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়
ইতিহাসজুড়ে রাগকে ক্ষতিকর বা পাপ কাজ হিসেবে দেখা হলেও সীমিত মাত্রায় রাগের কিছু সুফলও রয়েছে। এটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে। রাগের কারণে মানুষ নিজের লক্ষ্য অর্জনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন। তবে রাগ সব সময় ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায় জানা গুরুত্বপূর্ণ।
রাগ নিয়ন্ত্রণে যেসব বিষয় কাজে আসতে পারে—
কোনো পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুটা বিরতি নিন। এতে চিন্তা করার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
রাগের পেছনে থাকা মানসিক কষ্ট, আঘাত বা ভয়কে চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন।
পরিস্থিতি তৈরিতে নিজের কোনো ভুল বা ভূমিকা আছে কি না, তা বিবেচনা করুন।
দ্রুত ও অগভীর শ্বাস না নিয়ে ধীরে ধীরে দীর্ঘ শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এতে কর্টিসল কমে ও স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হতে পারে।
ধ্যান, যোগব্যায়াম ও পেশির শিথিলকরণের অভ্যাস আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









