শ্রীকান্ত আচার্যের সুর ধার করে বলতে হয়-
‘আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি তোমাকে দিলাম
শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু
তোমার কাছে চেয়ে নিলাম...’
প্রকৃতিতে এখন চলছে বর্ষাকাল, বৃষ্টির দিনে মন ভালো করতে এমন গানের কোনো বিকল্প নেই। আর সন্ধ্যার পরে প্রিয়জনের সঙ্গে একটু বাইরে ঘুরতে গেলে, বৃষ্টির দিনগুলো আরও উপভোগ্য হয় ওঠে। কিন্তু এ সময় বাইরে বের হতে দরকার বাড়তি সতর্কতা। বিশেষ করে পোশাকের ক্ষেত্রে। এ সময় চাই সময়োপযোগী ট্রেন্ডি পোশাক।
বর্ষাকাল মানেই আকাশের গোমড়া মুখ, একটু মেঘ জমলেই তাই ঝরঝর বৃষ্টি ঝরে। এ জন্য এ সময় মোটা, ভারী কাপড় এড়িয়ে চলতে হবে, সিনথেটিক জাতীয় কাপড় বেছে নিতে হবে। কারণ, সিনথেটিক জাতীয় কাপড় তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এ ছাড়া বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে কিংবা কাদা লেগে সহজে দাগ পড়ে না। এ সময় সাদা বা কালো কাপড় পরা ঠিক হবে না। কারণ এই দুই রঙের কাপড়ে কাদা বা বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে দাগ হয়ে যায়।
বৃষ্টির সঙ্গে নীলের দারুণ মিল আছে। বৃষ্টি চারদিক ধুয়ে যায়, প্রকৃতি হয়ে ওঠে সজীব। তাই এ সময় নীল রঙ প্রকৃতির ক্যানভাসের সঙ্গে ফুটে ওঠে। পাশাপাশি সি গ্রিন, লেমন কিংবা সবুজ রঙের কাপড় পরা যেতে পারে। আবার বর্ষাকালে বেশি লম্বা পোশাক পরা উচিত নয়, একটু খাটো পোশাক পরা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তা হলে রাস্তার কাদা সহজে পোশাকে জড়াতে পারবে না। আবার বৃষ্টির সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে বলে গুমোট গরম থাকে। তাই এ সময় পাতলা সুতির পোশাক আরামদায়ক। বৃষ্টির দিনে ছাপা প্রিন্টের কাপড় পরা ভালো। তা হলে হুট করে বৃষ্টিতে কাপড় ভিজে গেলেও অস্বস্তিতে পড়তে হবে না।
বর্ষাকালে বেশি লম্বা পোশাক পরা উচিত নয়, একটু খাটো পোশাক পরা বুদ্ধিমানের কাজ হবে
বর্ষাকালের ফ্যাশনে গাঢ় রঙকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। আর নকশায় জংলি ফুল, লতাপাতার মোটিফ উঠে আসে। ফুলেল নকশার স্ক্রিন প্রিন্টেও নানা রঙ ব্যবহার করা হয়। বৃষ্টির দিনে অনেকে জর্জেট শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, এর সঙ্গে সুতি প্রিন্টের ব্লাউজ পরা যেতে পারে। হাফ হাতা কিংবা হাতা কাটা ব্লাউজের নকশায় ফুলেল মোটিফ বর্ষার সঙ্গে ভালো মানাবে। চাইলে কেউ গোল কিংবা বোট গলার ব্লাউজও পরতে পারেন। আবার শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে একরঙা ব্লাউজও ভালো মানিয়ে যাবে।
সাজের ক্ষেত্রে এ সময় পানিনিরোধক মেকআপ-সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। উজ্জ্বল রঙের শাড়ির সঙ্গে চোখের মেকআপটা হওয়া চাই আকর্ষণীয়। বৃষ্টির দিন বলে আইলাইনার বাদ দেয়া ভালো। চোখের সাজে এ সময় গাঢ় নীল অথবা সবুজ রঙের কাজল বেছে নেয়া যেতে পারে। একটু বড় করে কাজল লাগাতে হবে। তারপর হাত দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। শ্যাডোর ক্ষেত্রে গোলাপি বা ছাই রঙ বেছে নিতে হবে। শ্যাডো চোখের ওপরের অংশে হালকা ও নিচের অংশে গাঢ় করে লাগাতে হবে। আর আলতো খোঁপা করে চুলে লাগাতে হবে কৃষ্ণচূড়া, রঙ্গন অথবা দোলনচাঁপা। বেলি ফুলের মালা দিলেও খারাপ লাগবে না। সবশেষে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কপালে পরতে হবে একটি টিপ। বৃষ্টির সঙ্গে নীলের দারুণ মিল আছে। বৃষ্টি চারদিক ধুয়ে যায়, প্রকৃতি হয়ে ওঠে সজীব। তাই এ সময় নীল রঙ প্রকৃতির
ক্যানভাসের সঙ্গে ফুটে ওঠে
সবশেষে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো পোশাকের যত্ন। কারণ বর্ষাকালে পোশাক নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। এ সময় ভেজা পোশাক সহজে শুকাতে চায় না। আবার ড্রয়ারে রাখা পোশাকগুলোও কেমন জানি হয়ে যায়। তাই ড্রয়ারের পোশাক মাঝেমধ্যে বাইরে বের করে খোলা জায়গায় কিছু সময় রেখে দিতে হবে। আবার সূর্যি মামার দেখা মিললে রোদে মেলে দিতে হবে। তাহলে পোশাকগুলো ভালো থাকবে। এসময় বাইরে থেকে এসেই পোশাক ড্রয়ারে রাখা উচিত হবে না। ড্রয়ারে রাখার আগে অবশ্যই শুকিয়ে নিতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









