সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে শত ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে জলরাশি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। চারদিকে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ আর নাম না জানা রঙিন ফুলের সৌন্দর্য মুহূর্তেই নিয়ে যাবে কল্পনার রাজ্যে। বলছি খাগড়াছড়ির রিসাং ঝরনার কথা।
খাগড়াছড়ি শুধু পাহাড়ি শহর নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। মারমা ভাষায় ‘রিসাং’ শব্দের অর্থ উঁচু জায়গা থেকে জলরাশি গড়িয়ে পড়া। ত্রিপুরা ভাষায় এ ঝরনার নাম তেরাং তৈকালাই। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক ধরে এগোলেও ঝরনাটির দেখা পাওয়া যায়।
পাহাড়ি সড়ক ধরে রিসাং ঝরনার দিকে এগোতে চোখে পড়বে সবুজের সমারোহ। পাহাড়ের ঢালে জুমের খেতে সোনালি পাকা ধান। কোথাও কোথাও দেখা মিলবে ধান ঘরে তোলার দৃশ্য। মাথার ওপর দূষণমুক্ত গাঢ় নীল আকাশ, আর তার বুকে তুলার মতো ভেসে থাকা শুভ্র মেঘ। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রকৃতির এই রূপ পর্যটকদের ছবি তুলতে থামিয়ে দেবে বারবার।
রিসাংয়ের কাছেই রয়েছে আরও একটি ঝরনা, যার এখনো কোনো নাম নেই। ছড়া ও ঘন জঙ্গল পেরিয়ে সেখানে যেতে হয়। রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এই পথ হতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।
পাহাড়, ঝরনা, নীল আকাশ আর মেঘের মিতালিতে সাজানো খাগড়াছড়ি পূজার দীর্ঘ ছুটিতে ঘুরে বেড়ানোর দারুণ গন্তব্য হতে পারে। হেমন্তের শুরুতে নির্মল আকাশ ও স্নিগ্ধ পরিবেশে রিসাং ঝরনা ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে উপভোগ্য। পাশাপাশি রয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।
সতর্কতা
ঝরনার নিচে থাকা পাথরে শেওলা জমে থাকায় সেগুলো অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পানির স্রোত বেশি থাকলে পাথুরে ঢালে ওঠানামা কিংবা পানির ওপর দিয়ে গড়িয়ে নামার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি থেকে রিসাং ঝরনা
খাগড়াছড়ি শহর থেকে রিসাং ঝরনায় যেতে পিকআপ, চাঁদের গাড়ি, সাফারি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা মাহিন্দ্র ব্যবহার করা যায়। দু-একজন হলে বাস টার্মিনাল থেকে মোটরসাইকেলেও যাওয়া সম্ভব। ঝরনার প্রবেশপথ পর্যন্ত পিকআপ ও জিপের যাওয়া-আসার ভাড়া ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। এরপর হেঁটে অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে ভেতরের পথে যেতে হয়। মোটরসাইকেলে যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। তবে যাতায়াতের আগে দরদাম করে নেওয়া ভালো।
কোথায় থাকবেন
খাগড়াছড়ি শহরে থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন মোটেল, হোটেল ও রিসোর্ট। এসব জায়গায় থাকার ভাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
কোথায় খাবেন
পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন পর্যটকেরা। খাগড়াছড়ি শহরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি খাবারের রেস্তোরাঁ। পানখাইয়া পাড়ার সিস্টেম রেস্তোরাঁ ও হেরিটেজ ডাইং বেশ পরিচিত। মহাজনপাড়া এলাকায় রয়েছে ব্যাম্বু শুট রেস্তোরাঁ ও কল্যাণী রেস্তোরাঁ। এ ছাড়া শহরের শাপলা চত্বর এলাকাতেও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবারের সুযোগ রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









