সন্ধ্যা হলে কলকাতার রাস্তাগুলো খুব তাড়াতাড়ি বদলে যায়। দিনের কোলাহল তখনও থামে না, ট্রামের ঘণ্টা বাজে, বাস ছুটে যায়, দোকানের আলো জ্বলে ওঠে, মানুষ ঘরে ফেরে। তবু সেই ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ কখনো মনে হয়—এই শহরের কোথাও যেন একটি সরু পথ ছিল, যে পথটি চলে গেছে অনেক দূরে, বাঁশবনের ভিতর দিয়ে, ধানের ক্ষেত পেরিয়ে, কোনো নদীর ধারে। সেখানে এখন আর কেউ নেই। শুধু সন্ধ্যার বাতাসে শুকনো পাতার শব্দ।
সেই পথের কথা মনে পড়লেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়ে।
তিনি যেন আমাদের ভিড়ের শহর থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ। হাতে কোনো পতাকা নেই, মুখে বড় কোনো ঘোষণা নেই। তিনি শুধু তাকিয়ে আছেন। সামনে মাঠ, দূরে গাছের সারি, আকাশে সন্ধ্যার মেঘ। তার পাশে হয়তো অপু দাঁড়িয়ে আছে, দুর্গা দৌড়ে যাচ্ছে, কোনো অচেনা পাখি ডাকছে। আর একটু দূরে অরণ্যের ভিতর দিয়ে চলে যাচ্ছে একটি পথ—যে পথের শেষ কোথায়, কেউ জানে না।
বিভূতিভূষণের সাহিত্য পড়লে প্রথম যে কথাটি মনে হয়, তা হলো—মানুষ এখানে খুব একা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই একাকিত্ব কখনো সম্পূর্ণ একাকিত্ব নয়।
অপুর একাকিত্ব আছে। দুর্গার আছে। সর্বজয়ার আছে। সত্যচরণের আছে। তার অসংখ্য চরিত্রের জীবনেই যেন কোথাও না কোথাও একটি ফাঁকা জায়গা পড়ে থাকে। কেউ প্রিয়জনকে হারিয়েছে, কেউ নিজের ঘর ছেড়ে দূরে গেছে, কেউ স্বপ্নের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। কেউ আবার মানুষের ভিড়ের মধ্যেই বুঝতে পেরেছে, তার ভিতরে এমন একটি ঘর আছে যেখানে আর কেউ ঢোকে না।
কিন্তু সেই ঘরের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে দেখা যায় একটি গাছ। দেখা যায় আকাশ। শোনা যায় নদীর জল। আর এই সব কিছু ঘিরে থাকে বিভূতিভূষণের জাদু। তিনি মানুষের নিঃসঙ্গতাকে প্রকৃতি দিয়ে ঢেকে দেন না। বরং প্রকৃতির বিশালতার মধ্যে মানুষের একাকিত্বকে আরও স্পষ্ট করে দেন। মানুষ তখন বুঝতে পারে, তার দুঃখ সত্যি, কিন্তু পৃথিবী তার দুঃখের চেয়েও বড়।

অপুর পৃথিবী তো এমনই। তার ঘরে অভাব। খাবার নেই, নতুন জামা নেই, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কিন্তু তার চোখের সামনে পৃথিবী প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে। বাঁশবনের পাতায় আলো পড়ে, বর্ষার জল জমে, কাশফুল দোলে, দূরে রেলগাড়ি যায়। সেই রেলগাড়ির শব্দ যেন তাকে বলে—এই গ্রামের বাইরে আরও একটি পৃথিবী আছে। শিশুটির মনে তখন পথের জন্ম হয়।
বিভূতিভূষণের সাহিত্য আসলে পথের সাহিত্যও। তার মানুষ কোথাও না কোথাও যেতে চায়। কখনো বাস্তবে, কখনো মনে মনে। সেই যাত্রার সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক গভীর। পথ কখনো মাঠের ভিতর দিয়ে গেছে, কখনো জঙ্গলের ভিতর, কখনো নদীর ধার ঘেঁষে। মানুষ হাঁটছে, আর তার সঙ্গে পৃথিবীও যেন হাঁটছে।
এই হাঁটার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
আজকের পৃথিবীতে আমরা খুব দ্রুত চলি। এক শহর থেকে আরেক শহরে যাই, এক খবর থেকে আরেক খবরে, এক পর্দা থেকে আরেক পর্দায়। আমাদের চারপাশের পৃথিবী যেন সব সময় ছুটছে। কিন্তু বিভূতিভূষণের মানুষ হাঁটে। সে থামে। কোনো গাছের দিকে তাকায়। নদীর জলে হাত দেয়। আকাশ দেখে। কোনো পাখির ডাক শুনে দাঁড়িয়ে থাকে।
এই দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই হয়তো তার সাহিত্যিক দৃষ্টি তৈরি হয়েছিল। তিনি জানতেন, পৃথিবীকে দেখতে হলে শুধু চোখ খোলা যথেষ্ট নয়। মনকেও একটু চুপ করতে হয়। ‘পথের পাঁচালী’-তে সেই চুপ করে থাকার মুহূর্তগুলো কত সহজভাবে আসে। দুর্গা আর অপু মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাদের সামনে কী আছে, তারা জানে না। হয়তো কোনো ফলের গাছ, হয়তো দূরে রেললাইন, হয়তো শুধু ঘাস আর আকাশ। তাদের কাছে পৃথিবী তখনও শেষ হয়ে যায়নি। পৃথিবী অসীম।
আমাদের জীবনে একসময় সেই অসীমতা কমে আসে। বড় হতে হতে আমরা পৃথিবীকে চিনে ফেলি বলে মনে করি। কোন রাস্তা কোথায় যায়, কোন ঘরে কারা থাকে, কোন কাজ করলে কত টাকা পাওয়া যায়—সব হিসাব হয়ে যায়। বিস্ময় কমে আসে। তখন একটি গাছ আর গাছ থাকে না; সে হয়ে যায় কাঠ। নদী আর নদী থাকে না; সে হয়ে যায় জমির সীমানা। বন হয়ে যায় জমিন।
বিভূতিভূষণের ‘আরণ্যক’ যেন সেই মুহূর্তের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘ, বিষণ্ন স্বীকারোক্তি। সত্যচরণ অরণ্যে যায় মানুষের কাজ করতে। তার কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বন কেটে জমি তৈরি করা। প্রথমে সে অরণ্যকে দেখে কাজের চোখে। তারপর ধীরে ধীরে সেই চোখ বদলে যায়। গাছগুলো আর কেবল গাছ থাকে না। নির্জন প্রান্তর আর কেবল জমি থাকে না। অরণ্য তার কাছে একটি জীবন্ত পৃথিবী হয়ে ওঠে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার নিজের হাতেই সেই পৃথিবীর ক্ষত হচ্ছে। এখানে বিভূতিভূষণ খুব নির্মম। তিনি তার নায়ককে সহজে নির্দোষ করে দেন না। সত্যচরণ প্রকৃতিকে ভালোবাসে, অথচ প্রকৃতির ক্ষতিও করে। মানুষের জীবন এমনই। আমরা যে পৃথিবীকে ভালোবাসি, অনেক সময় প্রয়োজনের তাগিদে সেই পৃথিবীকেই নষ্ট করি।
একটি গাছের ছায়ায় বসে মানুষ বিশ্রাম নেয়। আবার সেই গাছ কেটে ঘর বানায়। নদীর জল খায়। আবার নদীর পথ আটকে দেয়। অরণ্যে গিয়ে শান্তি খোঁজে। আবার অরণ্যকে নিজের সম্পত্তি বানাতে চায়। এই দ্বন্দ্বের কোনো সহজ সমাধান নেই। বিভূতিভূষণের মহত্ব এটাই—তিনি তার গল্পে কোন নীতিকথা বলেন না। কোন স্বপ্ন দেখানোর ভনিতা করেন তিনি মানুষকে তার জটিলতা নিয়েই দেখেন। কারণ ক্ষুধার্ত মানুষকে শুধু বন বাঁচানোর কথা বলা যায় না। তার ঘর দরকার, জমি দরকার, জীবিকা দরকার। আবার সেই প্রয়োজনের নামে একটি অরণ্য নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে যে ক্ষতি হয়, তারও কোনো সহজ হিসাব নেই।
এই দুই সত্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ‘আরণ্যক’-এর মানুষটি ধীরে ধীরে বদলে যায়। আর অরণ্য তখন শুধু অরণ্য থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতি। হয়তো এই স্মৃতিই বিভূতিভূষণের সাহিত্যের দীর্ঘ ছায়া। মানুষ চলে যায়, কিন্তু জায়গা থেকে যায়। মানুষ মরে যায়, কিন্তু একটি নদী বয়ে যায়। শৈশব শেষ হয়, কিন্তু পুরোনো বাঁশবন কোথাও থেকে যায়—অন্তত স্মৃতির মধ্যে।
এই কারণেই বিভূতিভূষণকে পড়লে কখনো কখনো মনে হয়, আমরা শুধু একজন লেখকের লেখা পড়ছি না। যেন এমন একজন মানুষকে খুঁজছি, যিনি আমাদের ফেলে আসা কোনো গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। তিনি হয়তো সেখানে আমাদের নাম জানতেন না, আমাদের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। তবু তার লেখার মধ্যে সেই পথটি আছে, সেই পুকুরটি আছে, সেই বাঁশবন আছে, দুপুরের শেলুটিউবয়েল আছে, রাস্তায় বিছিয়ে থাকা রোদের তেজ আছে,সেই সন্ধ্যা আছে, যে সন্ধ্যাকে আমরা নিজের বলে চিনতে পারি।
শহরে বসে সেই স্মৃতি আরও তীব্র হয়। উঁচু বাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে আকাশের খানিকটা দেখা যায়। নিচে গাড়ির আলো, মানুষের ভিড়। দূরে কোথাও কোনো গাছ দাঁড়িয়ে আছে। তার পাতার ওপর হয়তো শহরের ধুলো জমেছে। তবু সন্ধ্যা নামলে সেই গাছের চেহারায় এমন কিছু থাকে, যা আমাদের পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
কীসের কথা? হয়তো কোনো গ্রামের। হয়তো শৈশবের। হয়তো এমন এক সময়ের, যখন পৃথিবীকে এত ছোট করে দেখা শেখা হয়নি। বিভূতিভূষণ আমাদের কাছে এমনই স্মৃতির ডালি যাকে — মনে করা মানে শুধু তার বই মনে করা নয়; তাকে মনে করা মানে নিজের ভিতরের হারানো পৃথিবীটিকেও মনে করা। কারণ বিভূতিভূষণ শুধু গল্প লিখে যাননি। তিনি আমাদের পৃথিবীকে দেখবার নতুন দৃষ্টি দিয়ে গেছেন। সেই দেখার মধ্যে মানুষ আছে, কিন্তু মানুষের বাইরে আরও অনেক কিছু আছে।
একটি পিঁপড়ে হাঁটছে। একটি পাখি বাসা বানাচ্ছে। বৃষ্টির পরে মাটির গন্ধ উঠছে। নদীর জল ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। গাছের পাতায় নতুন কুঁড়ি আসছে। মানুষ হয়তো এসবের কোনো খবর রাখে না। তার নিজের দুঃখ নিয়ে সে ব্যস্ত। কিন্তু পৃথিবী তার চারপাশে নিজের কাজ করে যাচ্ছে।

বিভূতিভূষণের সাহিত্য আমাদের সেই কাজের শব্দ শুনতে আগ্রহী করে তুলেন। তার প্রকৃতি কখনো মানুষের দুঃখের চিকিৎসক নয়। প্রকৃতি কাউকে প্রতিশ্রুতি দেয় না যে সব ঠিক হয়ে যাবে। দুর্গার মৃত্যু হয়। দরিদ্র পরিবার ভেঙে যায়। মানুষ ঘর হারায়। অরণ্য কেটে যায়। নদীর ধারে বসে থাকা মানুষও একদিন উঠে চলে যায়।
তবু পরদিন সূর্য ওঠে। এই ‘তবু’-র মধ্যে বিভূতিভূষণের সমস্ত আলো লুকিয়ে আছে। জীবন শেষ হয়, কিন্তু জীবন থামে না। একটি মানুষ চলে যায়, অন্য একটি শিশু মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌড়ায়। একটি গাছ পড়ে যায়, অন্য কোথাও একটি চারা গজায়। একটি পুরোনো ঘর ভেঙে যায়, দূরে কোনো গ্রামে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলে। এই চলমান পৃথিবীর সামনে মানুষের জীবন ক্ষণিক। কিন্তু ক্ষণিক বলেই তা মূল্যহীন নয়। বরং অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ যে ভালোবাসে, স্বপ্ন দেখে, কাঁদে, হারায় এবং আবার পথ ধরে—এইটিই তার চিরায়ত সৌন্দর্য।
বিভূতিভূষণ মানুষের এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যকে প্রকৃতির দীর্ঘ জীবনের পাশে রেখে দেখেছেন। তার সমকালে রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতির মধ্যে আত্মার সংগীত শুনেছেন। জীবনানন্দ প্রকৃতির ভিতর দিয়ে ইতিহাস, স্মৃতি ও এক গভীর বিষণ্নতার দিকে হেঁটেছেন। তাদের প্রকৃতি কখনো প্রতীক, কখনো স্বপ্ন, কখনো আত্মার আয়না। বিভূতিভূষণের প্রকৃতি আরও মাটির কাছাকাছি। তার গায়ে ধুলো আছে। তার মধ্যে ক্ষুধা আছে। সেখানে কৃষকের ঘাম আছে, দরিদ্র মানুষের বসতি আছে, পথের কাঁটা আছে।
তবু তার ভিতরে অসীমও আছে। এই অসীমের কাছে গিয়ে বিভূতিভূষণের মানুষ নিজের ক্ষুদ্রতা বুঝতে শেখে। ‘অপরাজিত’-এর অপু যত দূরে যায়, তার ভিতরের পুরোনো পৃথিবী তত স্পষ্ট হয়। সে শিক্ষা পায়, শহর দেখে, নতুন জীবনের দিকে এগোয়। কিন্তু তার ভিতরে কোথাও সেই গ্রামটি থেকে যায়। মানুষের বড় হয়ে ওঠার গল্পের পাশাপাশি সেখানে নিজের উৎসের দিকে ফিরে তাকানোর গল্পও আছে।
আমরা সবাই হয়তো এমন।
জীবনের কোনো এক সময়ে ঘর ছাড়ি। তারপর আরও দূরে যাই। নতুন শহর, নতুন কাজ, নতুন মানুষ। মনে হয়, আগের জীবনটি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো এক বর্ষার রাতে জানালায় বৃষ্টির শব্দ হলে, কোনো অচেনা গন্ধে, কোনো পুরোনো গানের সুরে, কিংবা সন্ধ্যার আলোয় একটি গাছের ছায়া দেখে হঠাৎ মনে পড়ে—আমাদের ভিতরে একটি জায়গা এখনও রয়ে গেছে। সেখানে কেউ অপেক্ষা করছে না। তবু জায়গাটি আছে। বিভূতিভূষণের সাহিত্য সেই জায়গাটিতে আমাদের আমন্ত্রণ জানায়।
তাই তার গল্পের প্রকৃতি আমাদের কাছে এত পরিচিত মনে হয়। আমরা হয়তো সেই গ্রামে কখনো যাইনি। সেই নদী দেখিনি। সেই অরণ্যের ভিতর হাঁটিনি। তবু মনে হয়, সবই চেনা। কারণ প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের যে পুরোনো ভাষা তিনি লিখে গেছেন, তা কোনো একটি সময়ের নয়। মানুষ যতদিন আকাশের দিকে তাকাবে, যতদিন বৃষ্টিতে ভিজবে, যতদিন গাছের ছায়ায় বসবে, যতদিন ঘর ছেড়ে দূরে যাবে এবং একদিন ঘরের কথা মনে করবে—ততদিন সেই ভাষা বেঁচে থাকবে। বিভূতিভূষণের মৃত্যুর বহু বছর পরও তাই তার পৃথিবী আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়নি। হয়তো কোনো শহুরে রাতের শেষে আমরা জানালা খুলে দাঁড়াই। নিচে আলো জ্বলছে। মানুষ ফিরছে। গাড়ি ছুটছে। কোথাও কোনো অচেনা মানুষের মুখ এক মুহূর্তের জন্য চোখে পড়ে। তারপর হঠাৎ মনে হয়, এই পৃথিবীটাকে আমরা খুব দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছি।
তখন বিভূতিভূষণের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে একটি ধীর পথের কথা। মনে পড়ে মাঠের ওপর শেষ বিকেলের আলো।মনে পড়ে দূরের কোনো অরণ্য। মনে পড়ে এমন এক লেখক, যিনি আমাদের অনুভব করতে —পৃথিবীকে ভালোবাসা মানে শুধু তার সৌন্দর্য দেখা নয়; তার দুঃখও দেখা। গাছের সবুজের সঙ্গে তার কাটা পড়ার শব্দও শোনা। মানুষের সুখের সঙ্গে তার নিঃসঙ্গতাও বোঝা।
আর হয়তো তখনই বোঝা যায়, বিভূতিভূষণের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কোনো বাক্যে লেখা নেই। তা আছে হাঁটার মধ্যে। থেমে যাওয়ার মধ্যে। একবার পিছন ফিরে তাকানোর মধ্যে। আর সেই সন্ধ্যার আলোয়, যেখানে মানুষটি নেই, তবু তার দেখা পৃথিবীটি এখনও নিঃশব্দে পড়ে আছে।
একটি পথ। একটি গাছ। একটি নদী। দূরে বাড়ি ফেরার পাখি। আর আকাশের নিচে মানুষের ছোট্ট, ক্ষণস্থায়ী জীবন। সেই জীবন চলে যায়। আলো থেকে যায়।
শুভ জন্মদিন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









