জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান, কবিতা বা প্রশংসামূলক বক্তব্য দেওয়ার অতীত সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদ কোনো তোষামোদের জায়গা নয়; এটি জনগণের দায়িত্ব পালনের স্থান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে সংসদে যেন আর চরিত্রহনন বা অপসংস্কৃতি চালু না থাকে।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল—সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছে এবং প্রত্যেকেই নিজের বিবেক ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তাই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা থাকা জরুরি।
বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিবেশনেই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান সংসদকে “দুটি চাকার যানবাহন” হিসেবে তুলনা করে বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল—দুই পক্ষই সমানভাবে কার্যকর না থাকলে সংসদ অচল হয়ে যাবে। তাই পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, গণআন্দোলন এবং বিভিন্ন ঘটনাকে স্মরণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তিনি সংসদে বিভাজনমূলক আচরণ বন্ধ করে ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বাজেটের কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ প্রহরীর মতো কাজ করে যাতে জনগণের অর্থ অপচয় না হয় এবং দুর্নীতি না ঘটে। একই সঙ্গে তিনি বাজেট বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, যাতে বছরের শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো ও অপচয় কমানো যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









