বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো বাজেটে বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং দেশ গঠনের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
চিফ হুইপ জানান, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। ফলে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পান এবং বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ করেছেন এবং ছাঁটাই প্রস্তাবও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে বিরোধী দল মনে করেছে।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশে কর ছাড়ের দাবি জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেটকে ঘিরে অতীতের মতো বর্জন, মিছিল বা বড় ধরনের বিরোধিতার ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, সরকার ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর বাড়ায়নি। বরং যেসব পণ্যে ৫ শতাংশ কর ছিল, তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অর্থপাচার রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থপাচার ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার অবকাঠামোর পাশাপাশি কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প, ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক ও পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









