ভালো কাজ ও উচ্চ বেতনের প্রলোভনে বহু মানুষকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে প্রতারিত করেন মনির হোসেন (৪৫)। তার মিষ্টি কথায় বিশ্বাস করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় অনেক তরুণ ও যুবক নিজেদের সহায়-সম্বল বিক্রি করে প্রবাসে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাদের অনেকেরই ভাগ্যে জোটেনি কোনো কাজ, এমনকি দুবেলা খাবারও। বরং তাদের অভিযোগ, নির্মম নির্যাতন, অমানবিক কষ্ট এবং জিম্মি অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছে।
এমনই একজন ভুক্তভোগী অনিক পাল উদয় (…)। তাকে কাতারে কাজের ভিসার কথা বলে ৭ লাখ নেয় এই চক্র । এরপর কাতারে জিম্মি করে আরো প্রায় ২ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। কিন্তু এর পরও তার ভাগ্যে জোটেনি কাজ। এ রকম বহু ভুক্তভোগীকে আজ মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে মনির চক্রের কারণে। এত অভিযোগের পরও মনির সিন্ডিকেট রয়ে গেছে অধরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার পর মনির হোসেনের সিন্ডিকেট তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঢাকা ও মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মনির হোসেন।
এদিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মনির হোসেনের জীবনের আরো কিছু অন্ধকার অধ্যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মনির। একপর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়লে ওই নারীকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয়। নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য তার স্বামীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এদিনের অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে, প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে মনির হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন । প্রথম পক্ষের স্ত্রীর প্রতি তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করেন না, এমনকি তাদের খোঁজখবরও রাখেন না। এছাড়া একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তাদের ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। এদিনের প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তবে এদিনের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে মনিরের সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি মনির হোসেনের পক্ষে দৈনিক এদিনের কার্যালয়ে আসা রাসেল নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘ আলোচনার একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তিনিও মনির হোসেনের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে জড়িত। এছাড়া মনির হোসেনের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়েও তিনি নিশ্চিত করেন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণও এদিনের হাতে রয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মনির হোসেন দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগগুলো সঠিক নয়। দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর লোকজন এসব মিথ্যা ছড়াচ্ছে।’ তবে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
তবে তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো প্রবাসীদের জিম্মি করেন না। তবে বিগত ২০ বছর ধরে তিনি বিদেশে জনবল পাঠান বলে স্বীকার করে। ভ্রুণ হত্যা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্পর্ক হতেই পারে তবে ভ্রুণ হত্যার বিষয়টি মিথ্যা।’ আরেকজনের স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা যায় কি না- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
দৈনিক এদিনের অনুসন্ধানের প্রথম পর্বে দেখবেন— কিভাবে শূন্য থেকে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেন মনির হোসেন, এবং কী সেই অজানা চোরাপথ, যার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে তার সাম্রাজ্য…।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









