সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সব গ্রেডে একই হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করে গ্রেডভিত্তিক পৃথক হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
খসড়া পে-স্কেলে ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের জন্য আলাদা হার নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে চালু থাকা অষ্টম পে-স্কেলে সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর রয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সন্তানদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবে এ ভাতা ২ হাজার টাকা ছিল।
অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন সরকারি কোষাগার থেকে পুরোপুরি পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা মাসিক ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে বুধবার পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রস্তাবিত সুপারিশমালা অনুমোদন পেতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









