গত দুই দশক ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বিশেষ বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব) বিলুপ্ত না করে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হিসেবে নতুন নাম করা হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা ‘এসআইএফ।’
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।’
নামের সঙ্গে পোশাকেও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।’
জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিবকার সংগঠন বহুদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে এলেও তার বদলে নাম বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময় জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতির মধ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় বিশেষ বাহিনী র্যাব ।
পরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে শতশত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ র্যাবের বিরুদ্ধে। বিএনপির পর আওয়ামী লীগের সময়ও এর ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার র্যাব ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানালেও বাংলাদেশ সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি খালেদা জিয়াও পরে আওয়ামী লীগ আমলে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় র্যাবের ‘ক্রসফায়ার’ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়–ওএইচসিএইচআর র্যাব বিলুপ্তির পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কেবল সীমান্তরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরকে কেবল সামরিক গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করে।
সেসব আহ্বানে সাড়া না দিয়ে র্যাব গঠনের ২২ বছর পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করল সরকার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









