কারাগারে থাকায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী সাংবাদিক ফারজানা রূপার কাছে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের নথি অনুযায়ী, অনুসন্ধানে শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের পরিচালক (বিষয় ও তদন্ত-২) স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে তাদের নির্ধারিত ফরমে সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ জন্য শাকিল আহমেদের নামে ০০৭২১৩ এবং ফারজানা রূপার নামে ০০৭২১৪ নম্বর সম্পদ বিবরণী ফরম ইস্যু করা হয়েছে।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬ ধারার উপধারা (১)-এর অধীন অর্পিত ক্ষমতাবলে এসব আদেশ জারি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করলে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে দুদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দিতে দুদকের কনস্টেবল মো. জুয়েল মিয়া শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার ঠিকানায় যান। তবে সেখানে তাদের না পাওয়ায় আদেশপত্রসহ মূল ফরম ফেরত দেওয়া হয়।
পরে দুদক জানতে পারে, শাকিল আহমেদ তেজগাঁও থানায় পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ফারজানা রূপা যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদেশ জারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
দুদক সূত্র আরও জানায়, শাকিল আহমেদের নামে জারি করা আদেশ সিনিয়র জেল সুপার, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুর এবং ফারজানা রূপার নামে জারি করা আদেশ জেল সুপার, মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার অনুমোদনের জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের সংশ্লিষ্ট শাখার নথিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









