আজ বুধবার (১২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি ) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিল শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা মহানবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করবেন। দিনটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল, জশনে জুলুস (আনন্দ র্যালি) এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এই দিনটি বাংলাদেশে একটি সাধারণ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা-সরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।
সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন রাষ্ট্রপতির
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গতকাল মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান। পক্ষকালব্যাপী এ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। গতকাল বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হচ্ছে।
জানা গেছে, সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এই পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রতিদিন ব্যাপক কর্মসূচি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে—ওয়াজ-মাহফিল, কিরাত মাহফিল এবং হামদ-নাত। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, যা বাংলাদেশ বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তা ছাড়া তরুণ প্রজন্মকে রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাসুল (সা.)-এর শানে স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী। এ উপলক্ষে বিশেষ সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ ওয়াজ-নসিহত করবেন। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির চেতনা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের এই জ্ঞানগর্ভ অনুষ্ঠান ও বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই। মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।
সারাদেশে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে সারাদেশে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ উপলক্ষ্যে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক ও পরিচালকের পক্ষে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী ইবাদত-বন্দেগী, সালাত ও জিকিরসহ নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি পালনের লক্ষ্যে র্যাব অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহল জোরদার এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় মসজিদের ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক নেতা এবং নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির ব্যক্তিদের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্বার্থান্বেষী মহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং কোনো গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে হামলা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড চিহ্নিত করতে চলমান সাইবার পেট্রোলিং বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে। র্যাব ফোর্সেস দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম সম্পর্কে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। জনসচেতনতা ও সবার আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে র্যাব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









