২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে—সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, প্রকাশিত সংবাদগুলোতে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা—অর্থাৎ কতজন উদ্ধার হয়েছে এবং কতজন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে—সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি এবং এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি পরিষ্কার করতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। যাচাইয়ে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের জিডি হলেও উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন। অর্থাৎ মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণেও তারা নিখোঁজ হয়।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে ভিন্ন ধরনের কারণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার পর লজ্জার কারণে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজ করার অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে জিডি করার সুযোগ সহজ হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪টি। আর ২০২৫ সালে নিখোঁজ জিডির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫৫০টিতে।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, নিখোঁজের সংখ্যা উল্লেখ করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ও এখনো উদ্ধার না হওয়া শিশুদের তথ্য বিবেচনায় নিলেই এ বিষয়ে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









