উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না নিজেদরই ৪৮ জন শিক্ষার্থী। এসএসসি-২০২৬ ফলাফলে ওই শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ ছিলো না। অল্পকিছু নম্বরের কারণে ওই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারছে না।
ফলে তাদের অভিভাবকরা ধরণা দিচ্ছেন কলেজটিতে। ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ করে দিতে দিনাজপুরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে আবেদন করেছেন তারা।
কলেজ সূত্র জানায়, সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজটি ১৯৬৪ সালে স্থাপিত। প্রতি বছর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বোর্ড সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করছে। প্রতি বছর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে ৫০ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান করে নিচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
একই সূত্র জানায়, চলতি বছর সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে ১০১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্য থেকে ১০০ জনই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জন শিক্ষার্থী। এবার ওই কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তির আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০টি।
প্রতিষ্ঠানটির ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় গত ২৭ আগস্ট। এতে বলা হয় ভর্তির সর্বনিম্ন যোগ্যতা হল জিপিএ-৫। সামান্য নম্বর কম থাকায় ৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থাকছে না ওই প্রতিষ্ঠানে। ফলে অভিভাবকদের মাথায় হাত উঠেছে। তারা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছেন বারবার।
অভিভাবক সেলিনা আক্তার জানান, অধ্যক্ষ মহোদয় কোনোমতে আমাদের কথা শুনছেন না। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমাদের সন্তানেরা পড়ছে। তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।
অভিভাবক রোকসানা পারভীন জানান, গত বছরও প্রতিষ্ঠানটিতে ৪.৬৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হয়েছিল। এবার হঠাৎ কড়াকড়ি হওয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন বলে জানান। অপেক্ষাকৃত ভালো শিক্ষার্থীদের ভর্তি গ্রহণের জন্য দাবি করেন তিনি।
এ সংক্রান্ত ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদনও করেছেন অভিভাবকেরা।
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, নিঃসন্দেহে সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গাইডলাইন রয়েছে। তারা জিপিএ-৫ কে ন্যূনতম যোগ্যতা বলে ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের এই স্বাধীনতা রয়েছে।
সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল কালাম আজাদ জানান, আমাদের কলেজে প্রতি বছর ভর্তির চাপ বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহী। আমাদের অনেক চাপ সামাল দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের ভর্তি সংক্রান্ত কমিটি বারবার সভা করে ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করেছেন। আমি চাইলে নীতিমালার বাইরে যেতে পারিনা।
তিনি ভর্তি সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘তোমরা অন্য কলেজে ভর্তি হও আমি তোমাদের জন্য দোয়া করছি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









