ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে জমে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। জন্মতারিখ সংশোধনসংক্রান্ত ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ ক্যাটাগরির সব আবেদন তালিকাভুক্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ফাইল আর মাঠ পর্যায়ে নয়—সরাসরি এনআইডি মহাপরিচালকের (ডিজি) টেবিলে উঠবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হবে কেন্দ্র থেকেই।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি হয়। আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সীমিত সংশোধন কার্যক্রমের কারণে বিপুলসংখ্যক আবেদন অনিষ্পন্ন থেকে গেছে; নাগরিক ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সেগুলোর নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সময় বেঁধে দেওয়া রূপরেখা:
অফিস আদেশ অনুযায়ী—২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ক’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরির সব জন্মতারিখ সংশোধন আবেদন তালিকাভুক্ত করে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন।
‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হলেই আবেদনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে এনআইডি মহাপরিচালকের অধীনে চলে যাবে। অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ে আর নিষ্পত্তি নয়—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ডিজি পর্যায়ে।
স্বচ্ছতা নাকি বাড়তি চাপ?
ইসি সংশ্লিষ্টদের দাবি, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যাটাগরি নির্ধারণ ও ডিজি পর্যায়ে নিষ্পত্তির ফলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও তদারকি বাড়বে। তবে বিপুলসংখ্যক ফাইল একসঙ্গে প্রধান কার্যালয়ে জমা হলে কাজের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে ভেতরে ভেতরে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সময়মতো তালিকা পাঠানো ও ক্যাটাগরি পরিবর্তন না হলে দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে—এমন বার্তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









