ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পরীক্ষামূলকভাবে ঈদের আগেই চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। প্রাথমিকভাবে আট বিভাগের আটটি উপজেলায় দেওয়া হবে এ কার্ড।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।
প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, রোজার ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে যে ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দিয়েছিলেন সেটির অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড।
বিএনপির তরফ থেকে বলা হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্য-সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
বিরোধী পক্ষ এ কার্ড নিয়ে দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কায় এর সমালোচনায় মুখর হওয়ায় তখন তা নিয়ে আলোচনাও তৈরি হয়।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারও প্রান্তিক মানুষকে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছিল। তখন তা নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের দ্বিতীয় দিনেই এ কার্ড বাস্তবায়নের কাজে গঠন করা হল উচ্চ পর্যায়ের এ কমিটি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলা নির্বাচন করে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে তা শুরু করার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজের আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের একটি ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশও করবে কমিটি। এছাড়া নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে ফ্যামিলি কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির সভা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









