মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে আবারও অস্ত্রকাণ্ডের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।’’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পূর্বঘোষিত এই সংবাদ সম্মেলন করার উদ্দেশ্যে বেলা পৌনে ২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢোকেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তার অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সংবাদ সম্মেলন শুরু হয় বেলা দুইটার দিকে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘‘যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।’’
পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আজকের দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আমি তাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তী সময়ে আরও যদি এলাকা থাকে, সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সদয় সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন-‘‘ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করতে এসেছি, যা গত দুই-তিন ধরে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিছু সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত নানা ধরনের খবর প্রকাশ পেয়েছে। আমি আজকে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি মূলত ওই দিন ঠিক কী ঘটেছিল, সেটির বিস্তারিত তুলে ধরতে।’’
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুণ্টিঘরে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘‘তারা থানাকে জানিয়ে সেখানে যান। তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সবসময় কোমরে থাকে। তিনি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন, যাতে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে রক্ষা করতে পারেন। যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেছেন মাদকাসক্তদের হাতে অস্ত্র নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘এরপর রাতে দেখতে পান একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনামে প্রতিবেদন হয়েছে। ঘটনার দিন প্রধানমন্ত্রী ১৩টি জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন, যেটি প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু তার (ইশরাক) ঘটনা গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ঘটনাগুলো ঢাকা পড়ে গেছে।’’
পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাকে মাদকের ভয়াবহতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন তিনি পদত্যাগ করতে চান। তার কারণে যাতে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়ে যায়, সে কারণেই এ কথা বলেছেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তার অভিযান চলবে বলে ঘোষণা দেন ইশরাক।’’
এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘‘এই ধর ধর ধর...।’’ তার পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘একেবারে গুলি করে দেব।’’
এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। তাদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









