ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইনে ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনার পরিচয় প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে উনি অপরাধী। আমাদের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী। এটাই হলো আমাদের কাছে তাঁর পরিচয়।’
ভারত শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে—এমন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাঁকে কীভাবে দেখছে, সেটি তাদের বিষয়। বাংলাদেশের কাছে তিনি আদালতে সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁর বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা করছে। এ ক্ষেত্রে আবেগের কোনো বিষয় নেই; আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক্সট্রাডিশন চুক্তির আওতায় আমরা ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি। তারা আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আইনের আওতায় সোপর্দ করা হবে।’
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে।
অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় অধস্তন আদালতের বিচারক আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এমন প্রশ্নে আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে হয় তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হবে, নয়তো আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া আগামী ১৯ মে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে গণহত্যা প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









