প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক জহির রায়হান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য। এই গুণীজনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে জহির রায়হান যে সৃজনশীলতার ঝড় তুলেছিলেন, তা আজও বিস্ময় জাগায়। সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র এই তিন মাধ্যমেই তিনি ছিলেন সমান মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার অধিকারী। স্বাধীনতার পর নিখোঁজ সহোদর শহীদুল্লাহ কায়ছারকে খুঁজতে গিয়ে নিজেই পাড়ি জমান অজানা গন্তব্যে। কীভাবে, কোন পরিস্থিতিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে সে রহস্য আজও উদ্ঘাটিত হয়নি।
পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কলম ও ক্যামেরাকে অস্ত্র করে নিয়েছিলেন জহির রায়হান। চলচ্চিত্রের ভাষায় তিনি তুলে ধরেছেন দমন-পীড়ন, শোষণ ও বন্দী বাঙালির জীবনের করুণ বাস্তবতা। তাঁর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’ বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার চিত্র বিশ্বদরবারে উন্মোচন করে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘জীবন থেকে নেয়া’ এক অনন্য মাইলফলক, যেখানে প্রতীকী ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ। লোকসংস্কৃতি অবলম্বনে নির্মিত ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি এদেশের সিনেমার ধারায় নতুন মোড় আনেন। এছাড়া ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘সঙ্গম’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে তাঁর নির্মাণশৈলী আজও স্মরণীয়।
সাহিত্যাঙ্গনেও জহির রায়হান সমানভাবে দীপ্তি ছড়িয়েছেন। ‘হাজার বছর ধরে’, ‘বরফ গলা নদী’, ‘আর কতদিন’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘আরেক ফালগুন’এমন বহু উপন্যাসে তিনি সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্গত টানাপোড়েনকে গভীর মমতায় তুলে ধরেছেন।
জহির রায়হান তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা।
জহির রায়হান নেই কিন্তু তাঁর চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও আদর্শ আজও প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে, স্বাধীনতার চেতনা হয়ে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









