বাংলাদেশের পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ সিদ্দিকা কবিরের ১৪তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ। যিনি রান্নাকে দৈনন্দিন প্রয়োজনের গণ্ডি থেকে তুলে এনে শিল্পের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সেই মানুষটিকে।
“রান্না শুধু খাওয়ার জন্য নয়, এটি এক ধরনের শিল্প”এই ধারণাকে সমাজে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে আজীবন কাজ করে গেছেন সিদ্দিকা কবির। রান্নাবান্নাকে সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও পুষ্টিবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেন।
টেলিভিশনের পর্দায় সহজ-সরল ভঙ্গিতে উপস্থাপিত তাঁর রেসিপিগুলো খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মজার ও ব্যবহারিক রান্নার অনুষ্ঠান এবং রান্না-বিষয়ক গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে রান্নার অনুষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে স্পনসরশিপের ধারণা জনপ্রিয় করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৩১ সালের ৭ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সিদ্দিকা কবির। তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরু হয় একই বছরে ইডেন গার্লস কলেজে গণিতের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে খাদ্য ও পুষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমএস ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে ১৯৬৩ সালে ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দেন।
ব্যক্তিজীবনে রন্ধনপ্রেমী এই অধ্যাপিকা খাদ্য, পুষ্টি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রচনা করেছেন বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। তাঁর লেখা রান্নার বইগুলো অল্প সময়েই পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- রান্না খাদ্য পুষ্টি, খাবার-দাবার কড়চা, পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থা, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রান্না (সম্পাদিত), বাংলাদেশি কারি কুক বুক প্রভৃতি।
এনটিভিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারিত রান্না ও পুষ্টি বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সিদ্দিকা কবির’স রেসিপি’ তাঁর তত্ত্বাবধান ও অংশগ্রহণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলা টেলিভিশনের রান্নার অনুষ্ঠানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
এই দেশবরেণ্য রন্ধনশিল্পী ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবির ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









