রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান সাহিত্যিক যতীন্দ্রমোহন বাগচী। তিনি ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ নভেম্বর নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে। কবি ও সম্পাদক যতীন্দ্রমোহন বাগচীর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। কর্মজীবনে বিচারপতি সারদাচরণ মিত্র ও নাটোরের মহারাজার সচিব, কলকাতা কর্পোরেশনের লাইসেন্স-ইন্সপেক্টর এবং এফ. এন. গুপ্ত কোম্পানির ম্যানেজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ভারতী, পত্রিকাসহ বিভিন্ন নামকরা পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীকালে তিনি মানসী পত্রিকার সম্পাদক, যমুনা পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক এবং পূর্বাচল পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
রবীন্দ্রোত্তর যুগের অন্যতম শক্তিমান কবি হিসেবে যতীন্দ্রমোহন বাগচী পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ এবং ভাগ্যবঞ্চিত, নিপীড়িত নারীদের জীবনের কথা গভীর মমতায় তুলে ধরেছেন। ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ এ ধারার দুটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কবিতা।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- লেখা, রেখা, অপরাজিতা, নাগকেশর, জাগরণী, নীহারিকা ও মহাভারতী। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ও সমকালীন সাহিত্য নিয়ে রচিত তার গুরুত্বপূর্ণ গদ্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ও যুগসাহিত্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে তিনি পরলোকগমন করেন। বাংলা সাহিত্যে তার অবদান চিরস্মরণীয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









