বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দুই মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রের জন্মদিন আজ। রোনালদোর ৪১ আর নেইমারের পূর্ণ হলো ৩৪ বছর।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
১৯৮৫ সালের এই দিনে পর্তুগালের মাদেইরার ফাঞ্চালে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি এখনও পেশাদার ফুটবলে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড বয়সের বাধা পেছনে ফেলে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে গোল করে চলেছেন নিয়মিত।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা ইতোমধ্যে ৯৬১, যা তাকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শৈশবে প্রিয় দল ছিল বেনফিকা, তবে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন স্পোর্টিং লিসাবনে। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে পরিচিতি পান। এরপর রিয়াল মাদ্রিদে ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটান, জেতেন একের পর এক শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কার। পরে জুভেন্টাস ও আবার ইউনাইটেড হয়ে বর্তমানে খেলছেন আল নাসরে, যেখানে এখনও তিনি দলের প্রধান ভরসা।
প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করে চলেছেন তিনি। তাই ভক্তদের কাছে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, অধ্যবসায়, ফিটনেস আর জয়ের প্রতীক।
নেইমার জুনিয়র
একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রতিভাবান ও নান্দনিক এক ফুটবলার নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র, যিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত নেইমার জুনিয়র নামে।
১৯৯২ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া নেইমার তার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সন্তোস এফসিতে। অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি ও গোল করার দক্ষতায় খুব অল্প বয়সেই তিনি ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলোর নজর কাড়েন। ২০১৩ সালে ৮৮ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তিনি যোগ দেন এফসি বার্সেলোনায়। সেখানে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে ওঠা ‘এমএসএন’ ত্রয়ী ক্লাব ফুটবলে ট্রেবলসহ প্রায় সব সম্ভাব্য শিরোপা জিতে নেয়।
২০১৭ সালে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেইমার যোগ দেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে। ২২২ মিলিয়ন ইউরোর সেই ট্রান্সফার এখনও ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। পিএসজির হয়ে তিনি একাধিক ঘরোয়া শিরোপা জিতলেও মূল লক্ষ্য উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অধরাই থেকে যায়। পরবর্তীতে সৌদি ক্লাব আল-হিলালে যোগ দিলেও চোট সমস্যা তার ক্যারিয়ারকে আবারও থামিয়ে দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি অধ্যায় শেষ করে শৈশবের ক্লাব সন্তোস এফসিতে ফিরে আসেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসে অনন্য। ২০১০ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি ২০২৩ সালে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ভেঙে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।
ব্যক্তিগত অর্জনেও নেইমার অনন্য- ২০১১ সালের পুসকাস পুরস্কার, ২০১৫ ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় স্থান, দুবার দক্ষিণ আমেরিকান বর্ষসেরা ফুটবলার এবং লা লিগা ও লিগ ১ এর বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি তার ক্যারিয়ারকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকার জন্মদিনে শুভেচ্ছা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









