সুভাষ দত্ত, একজন বাংলাদেশী বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, সিনেমা চিত্রশিল্পী ও অভিনেতা। তিনি ষাটের দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের সুপরিচিত মুখ। এই গুণী নির্মাতার ৯৬তম জন্মবার্ষিকী।
১৯৩০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের মুন্সিপাড়ায় জন্ম নেওয়া এই গুণী নির্মাতার পৈতৃক নিবাস ছিল বগুড়া জেলার চকরতি গ্রামে। জীবনের বড় অংশ কেটেছে পুরান ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের নিজ বাড়িতে।
পেশাগত জীবনের শুরুটা ছিল বাণিজ্যিক চিত্রশিল্পী হিসেবে। ১৯৫৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালী দেখে চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মায় তাঁর। পরে এহতেশামের এ দেশ তোমার আমার ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর পোস্টার ডিজাইন করেন তিনি। আর মাটির পাহাড় চলচ্চিত্রে আর্ট ডিরেকশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর পরিচালনা জীবন।
১৯৬৪ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘সুতরাং’ বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পায় এবং এই ছবির মাধ্যমেই অভিনেত্রী কবরীর যাত্রা শুরু হয়। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় ও শিল্পমানসম্পন্ন সিনেমা নির্মাণ করেন- কাগজের নৌকা, আয়না ও অবশিষ্ট, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, সকাল সন্ধ্যা, বসুন্ধরা, ডুমুরের ফুল, নাজমা, স্বামী-স্ত্রী, সহধর্মিণী, পালাবদল, আলিঙ্গন, বিনিময়সহ আরও অনেক ছবি।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক-পরিচালক সম্মাননা লাভ করেন এবং ১৯৯৯ সালে অর্জন করেন একুশে পদক। দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত এই নির্মাতা ২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলাদেশি সিনেমার ইতিহাসে সুভাষ দত্ত একটি উজ্জ্বল নাম, যাঁর সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠা আজও নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









