বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে ফিওদর দস্তয়েভস্কি এক অনন্য উচ্চতার নাম। ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, রাজনীতি কিংবা মানবমন যে ক্ষেত্রেই প্রবেশ করা হোক না কেন, দস্তয়েভস্কির রচনায় পাঠক খুঁজে পান নতুন ভাবনার দুয়ার। এই মহান দার্শনিকের ১৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
‘নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড’, ‘দি ইডিয়ট’, ‘ডেভিলস’, ‘দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ’‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’তাঁর প্রতিটি উপন্যাস মানবমনের জটিলতা ও নৈতিক দ্বন্দ্বের গভীরে পৌঁছে যায়। বিশেষত ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ অনেক সমালোচকের চোখে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলির একটি, যেখানে এক হত্যাকাণ্ডের পর মানুষের আত্মগ্লানি ও মানসিক সংগ্রাম নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।
তরুণ বয়সে দস্তয়েভস্কি ছিলেন প্রগতিশীল ও বিপ্লবমুখী। পেট্রাশেভস্কি চক্রে যোগ দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এবং পরে সাইবেরিয়ার কারাজীবন তাঁর চিন্তায় আমূল পরিবর্তন আনে। সামাজিক মতবাদের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন ব্যক্তির স্বাধীনতাকে। সমাজবাদ, নিহিলিজম বা কঠোর যুক্তিবাদ— এসবের মধ্যে তিনি দেখেছিলেন মানুষের স্বাধীনতার সংকোচন।
‘নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড’এ তিনি দেখান, মানুষ কেবল যুক্তির প্রাণী নয়; সে আবেগ, অযৌক্তিকতা আর স্বাধীন ইচ্ছার মিশেলে গড়া। নিরাপত্তা ও সুখের নিশ্চয়তাও কখনও কখনও স্বাধীনতার প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে তা ‘দ্য গ্র্যান্ড ইনকুইজিটর’ অধ্যায়ে যার শক্তিশালী দার্শনিক ব্যাখ্যা মিলেছে।
মার্কসবাদী তাত্ত্বিক গেয়র্গ লুকাচ ও লেখক চেখভ মনে করিয়ে দেন একজন বড় শিল্পীর কাজ সব উত্তর দেওয়া নয়, বরং সঠিক প্রশ্ন তোলা। দস্তয়েভস্কি সেই কাজটিই অসাধারণ দক্ষতায় করেছেন। মানুষের নৈতিকতা, স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও অপরাধবোধ এসব মৌলিক প্রশ্ন তিনি এমনভাবে উত্থাপন করেছেন, যা আজও আমাদের নাড়া দেয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









