সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বিংশ শতকী বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা। তিনি তার ভ্রমণকাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়। প্রজ্ঞা, রসবোধ ও ভ্রমণনির্ভর অভিজ্ঞতার অনন্য মিশেলে বাংলা সাহিত্যে তিনি গড়ে তুলেছিলেন স্বতন্ত্র এক ভুবন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৭৪ সালের এই দিনে পরলোকগমন করেন।
১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেটের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবে পিতার চাকরির বদলির কারণে বিভিন্ন স্থানে পড়াশোনা করলেও ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। বিশ্বভারতীর প্রথমদিকের ছাত্র হিসেবে সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয়সহ প্রায় পনেরোটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণা করে ডি.ফিল ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে কাবুল, বরোদা, দিল্লি, বগুড়া ও শান্তিনিকেতনে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন বিভিন্ন শহরে।
সাহিত্যজীবনে তার রচনা সংখ্যা প্রায় ৩০টি। দেশে বিদেশে, শবনম, চাচা কাহিনী, টুনি মেম, ময়ূরকন্ঠী, জলে ডাঙ্গায়সহ বহু গ্রন্থে ভ্রমণ, সমাজ ও মানবজীবন উঠে এসেছে হাস্যরস ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে। তার লেখনী বাংলা গদ্যে এক অনন্য প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নরসিংহ দাস পুরস্কার ও আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
মৃত্যু পেরিয়েও সৈয়দ মুজতবা আলী আজও বেঁচে আছেন তার বুদ্ধিদীপ্ত, প্রাণবন্ত ও রসসমৃদ্ধ লেখনিতে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









