মানুষের জন্য গান কিংবা মানুষের পক্ষের গান এই ছিল যাঁর সংগীতজীবনের মূলমন্ত্র তিনিই কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। সহজ-সরল জীবনবোধ আর গভীর মানবিক চেতনায় ভর করে যিনি গেয়েছেন প্রতিবাদ, ভালোবাসা আর স্বপ্নের কথা, সেই প্রতুল মুখোপাধ্যায় ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
১৯৪২ সালের ২৫ জুন বরিশালে জন্ম তাঁর। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে বেড়ে ওঠা প্রতুলের শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের ভেতরেই। প্রাতিষ্ঠানিক সংগীতশিক্ষা না থাকলেও চারপাশের জীবন, মানুষের কণ্ঠ, ভোরের কীর্তন আর বাবার সান্নিধ্যই ছিল তাঁর আসল সংগীতবিদ্যালয়।
মাত্র ১২ বছর বয়সে কবি মঙ্গল চরণ চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায় সুর দিয়ে গান শুরু। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের চাকরি ও অধ্যাপনার পাশাপাশি গানে অটুট থেকেছেন। ১৯৯৩ সালে রচিত ‘আমি বাংলায় গান গাই’ তাঁকে পৌঁছে দেয় গণমানুষের হৃদয়ে।
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’ দিয়ে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ পথচলা। এরপর একের পর এক অ্যালবাম ও গণসংগীতে তিনি হয়ে ওঠেন মানুষের কণ্ঠস্বর। অবহেলা আর তুচ্ছতাকে পেছনে ফেলে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, গান মানে কেবল সুর নয়, অবস্থানও।
প্রতুল মুখোপাধ্যায় বিশ্বাস করতেন, সৃষ্টির জন্য একাকিত্ব দরকার, কিন্তু সেই সৃষ্টি যখন মানুষের হয়ে যায়, তখনই তা সার্থক। আজ তাঁর কণ্ঠ থেমে গেছে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বাজতে থাকবে তাঁর সেই চিরচেনা উচ্চারণ বাংলার গান, মানুষের গান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









