বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির গৌরবময় সন্তান বঙ্গবীর জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। স্বাধীনতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম তিনি।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান এবং মাতা জোবেদা খাতুন। শৈশবে মাতৃ-তত্ত্বাবধানে বাংলা ও ফার্সি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
১৯২৯ সালে গৌহাটির কটন স্কুলে ভর্তি হন। পরে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুল থেকে ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন এবং ইংরেজিতে কৃতিত্বের জন্য “প্রিটোরিয়া অ্যাওয়ার্ড” লাভ করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৩৬ সালে আই.এ ও ১৯৩৮ সালে বি.এ সম্পন্ন করেন।
১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত হন। অল্প বয়সেই অসামান্য যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে নজিরবিহীন রেকর্ড গড়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ফ্রন্টে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে কর্নেল পদে উন্নীত হন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তার অবস্থান ছিল দৃঢ় ও স্পষ্ট।
১৯৬৭ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধকৌশল প্রণয়ন, বাহিনী পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে তার ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। তার নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সুসংগঠিত রূপ লাভ করে এবং বিজয়ের পথ সুদৃঢ় হয়। স্বাধীনতার পর তিনি মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে “বঙ্গবীর” উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল।
বঙ্গবীর এম.এ.জি. ওসমানী কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তা নন; তিনি ছিলেন শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









