বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার এক উজ্জ্বল নাম জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্ম নেওয়া এই প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ আজীবন জ্ঞানচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তার সাধনায় নিবেদিত ছিলেন। আজ তার ৮৯তম জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।
শিক্ষক ও গবেষকের পরিচয়ের বাইরে ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন সময়সচেতন নাগরিক। ছাত্রজীবনেই তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের শিক্ষা-চিন্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এ কমিশনের প্রধান ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-এ-খুদা।
দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেন এবং পরবর্তীতে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে সম্মানিত হন। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মধ্যযুগীয় সাহিত্য ও বাঙালির সাংস্কৃতিক বিকাশ। প্রবন্ধ, গবেষণা ও সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যচর্চায় স্থায়ী অবদান রেখে গেছেন।
শিক্ষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. আনিসুজ্জামান দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৭০ সালে প্রবন্ধ ও গবেষণায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৫ সালে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক, ভারত সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ, ২০১৫ সালে সাহিত্য ও শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার
দীর্ঘ কর্মময় জীবনের শেষে বার্ধক্যজনিত কারণে ২০২০ সালের ১৪ মে ৮৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









