বাংলাদেশের রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের পরিচিত মুখ নাজমুল হুদা ছিলেন একাধারে ব্যারিস্টার, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন ও নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় ছিলেন।
১৯৪৩ সালের ৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী নাজমুল হুদা পেশাগত জীবনে আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি প্রখ্যাত আইনজীবী সিগমা হুদাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই কন্যা অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদা ও শ্রাবন্তী আমিনা।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত জাগো দলে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলের সর্বকনিষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একজন। দলের প্রতি তাঁর সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পরবর্তীতে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি তথ্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালের ১০ আগস্ট আবুল কালামের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন দল গঠন করেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেখান থেকেও তিনি বহিষ্কৃত হন।
এরপর ধারাবাহিকভাবে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নেন, ২০১৪ সালের ৭ মে বাংলাদেশ জাতীয় জোট, একই বছরের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি এবং ২০ নভেম্বর ২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নাজমুল হুদা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র, প্রতিষ্ঠিত দল থেকে নতুন রাজনৈতিক ধারার অনুসন্ধান, নেতৃত্বের উত্থান-পতন এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় আলোচিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









