ভারতীয় সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রের প্রথম যুগে যে কয়েকজন শিল্পী তাঁদের প্রতিভা ও নবসৃষ্টির মাধ্যমে ইতিহাস গড়ে দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক। তিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা। বিশেষত রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনন্য।
১৯০৫ সালের ১০ মে কলকাতায় তাঁর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সঙ্গীতপ্রেমী পিতা মণিমোহন মল্লিক ও মা মনোমোহিনী দেবীর পরিবারেই তাঁর সঙ্গীতজীবনের ভিত্তি রচিত হয়।
স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। পরে তাঁর পরিচয় হয় দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে, যা তাঁকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের দিকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। অচিরেই তিনি হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য শিল্পী এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের অগ্রগণ্য পরিবেশক।
১৯২৬ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর প্রথম রেকর্ড “নেমেছে আজ প্রথম বাদল” প্রকাশিত হয়। ১৯৩২ সালে তাঁর প্রথম রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড প্রকাশ পায়। রবীন্দ্রনাথের খেয়া কাব্যের “দিনের শেষে ঘুমের দেশে” কবিতায় সুরারোপ করে গেয়ে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯২৭ সালে তিনি যোগ দেন ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে, যা পরে অল ইন্ডিয়া রেডিও (আকাশবাণী) নামে পরিচিত হয়। তাঁর সহকর্মী ছিলেন রাইচাঁদ বড়াল।
প্রায় পাঁচ দশক তিনি আকাশবাণীতে শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এবং বেতারসঙ্গীতের ধারা বিকাশে অবদান রাখেন।
১৯৩১ সাল থেকে প্রায় ৩৮ বছর তিনি বাংলা, হিন্দি, উর্দু ও তামিল চলচ্চিত্রে সুরারোপ ও গায়ন করেন। তিনি কাজ করেছেন বহু কিংবদন্তির সঙ্গে- কুন্দন লাল সায়গল, শচীন দেব বর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, গীতা দত্ত, আশা ভোঁসলে। অভিনয়েও তিনি ছিলেন। নীতীন বসু ও রাইচাঁদ বড়ালের সঙ্গে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠসংগীতের প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
ভারতের প্রথম যুগের চলচ্চিত্র স্টুডিও নিউ থিয়েটার্স এর সঙ্গে তিনি প্রায় ২৫ বছর যুক্ত ছিলেন। ১৯৩১ সালে তাঁর সুরারোপিত মহালয়ার বিখ্যাত অনুষ্ঠান মহিষাসুরমর্দিনী আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।
তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭০ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৭২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রদান করে।
১৯৭৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এই মহান শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









