ষাটের দশকে গণসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ফকির আলমগীর। এই সময়ে তিনি ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি সংগ্রামী চেতনা ছড়িয়ে দেন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলা সঙ্গীতে আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনেও তাঁর অবদান অনন্য। দেশীয় সুরের সঙ্গে পাশ্চাত্য সঙ্গীতধারার মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ও তাঁর সমসাময়িক কয়েকজন শিল্পী বাংলা পপ ধারার গানের সূচনা করেন। পরবর্তীকালে এই ধারার বিকাশ ও জনপ্রিয়তায় ফকির আলমগীরের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী হাচেন উদ্দিন ফকির এবং মাতা বেগম হাবিবুন্নেসা শিল্পী। তিনি ভাঙ্গার কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পাস করে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন ‘শব্দসৈনিক’ হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গণসংগীত পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন। সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সংগ্রামের পথ পেরিয়ে এই গুণী শিল্পী ২০২১ সালের ২৩ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত গণমানুষের গান, মুক্তির চেতনা ও দেশপ্রেম আজও বাংলা সংগীতভুবনে অম্লান।
গণসংগীতশিল্পী, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









