ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় অংশ নিতে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটের দিকে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র মাহাদী আমীন জানান, সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করতে আজ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। তিনি গভীর রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং আগামীকাল সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন।
সিলেট সফরের পর তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠ, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়াম, নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
মাহাদী আমীন বলেন, ‘এসব সমাবেশে অংশ নিয়ে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ইনশাল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে এবং গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ছিল অনবদ্য ও অভূতপূর্ব ভূমিকা। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতিটি সফরে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ক্রমে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাবেন এবং দেশের জন্য তাদের যে সংগ্রাম, তাকে মূল্যায়িত করবেন।’
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলো বড় কোনো কর্মসূচি বা নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করা। তারেক রহমানের এই সফর মূলত সেই আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরই অংশ।
সিলেট সফরে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যাচ্ছেন আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বেশ কিছু ত্যাগী ও সংগ্রামী তরুণ নেতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের এই রাজনৈতিক তৎপরতা তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করবে। এটি দলের ঐক্য এবং শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এই সফরের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন বা আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলেও অনেকে মনে করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









