ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় গিয়ে সিলেটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে এই যে ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকার যে মহাসড়ক; ২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম সুনামগঞ্জে, বন্যা হয়েছিল। আমার আসতে লেগেছিল সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতন। কিন্তু আজ আজ আমরা দেখি ১০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে। সিলেটের এই পূণ্যভূমির মানুষ বহু মানুষ আছেন, যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন; লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না প্লেনে করে যেতেও-এই হচ্ছে আজকে উন্নয়নের ফিরিস্তি।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা আমাদের সকলের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। আমরা একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে- যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা আবার এই রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি।’

এ জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলেন তারেক রহমান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করতেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেজন্যই আমরা বলতে চাই- টেক ব্যাক বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায় করা। সেজন্যই আমরা ২১ দফার কর্মসূচি দিয়েছি। এই ২১ দফার কর্মসূচির মাধ্যমে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে আমরা এই ২১ দফার মাধ্যমে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে চাই। ...আমরা ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। প্রতিটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই- তাদেরকে সাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘এখানে আপনাদের যাদের সংসার আছে, জানেন- স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সংসার সুন্দর হয়। যাতে আমাদের মায়েরা আপনাদের পাশে বোনেরা আপনাদের পাশে থেকে সংসারকে সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে পারে। আমরা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে সকল দুস্থ পরিবার যারা আছে; মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আপনার পরিবার, আপনার মা বা আপনার স্ত্রী আপনার বোনের মাধ্যমে আপনার পরিবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু এই ফ্যামিলি কার্ডকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে কী করতে হবে? কী করতে হবে? ধানের শীষকে জয় যুক্ত করতে হবে, পারবেন? ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভা মঞ্চে পৌঁছান তারেক রহমান।
তারেক রহমান সভামঞ্চে আসার পর দলের নেতা–কর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে, লাগারে লাগা, ধান লাগা’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন। ১২টা ৫৮ মিনিটে তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেন। ১টা ২৫ মিনিটে তাঁর বক্তব্য শেষ হয়।

এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে জনসভা শুরু হয়। স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজনে সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনসভা সঞ্চালনা করছেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কলিম উদ্দিন মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান প্রমুখ।
আজ সাত স্থানে জনসভা-
তারেক রহমান সিলেট ছাড়াও আজ আরও ছয়টি জেলার ছয়টি স্থানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। পথিমধ্যে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন ছয় জেলায় আয়োজিত সভায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্যে প্রথমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন।
পরে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর পার্কে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন। এসব জনসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









