ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জনগণের শাসন কায়েম করার নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রায় ১৬ বছরে দেশের সবকিছু ছারখার হয়ে গিয়েছে। আমরা দেখেছি আমাদের রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি কীভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ থেকে জনগণের অর্থ সম্পদ পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই দুর্নীতিকে যদি বন্ধ করতে হয়, তাহলে জনগণকে সজাগ হতে হবে। এই দুর্নীতিকে যদি কন্ট্রোল করতে হয়, এই দুর্নীতিকে যদি দমন করতে হয়, এই দুর্নীতি থেকে যদি দেশকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।’
জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে দেশ গড়ার নির্বাচন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্বাচন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নির্বাচন, জনগণের শাসন কায়েম করার নির্বাচন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হচ্ছে সৎ মানুষকে নির্বাচিত করার নির্বাচন। রাসুলে করীম (সা.) এর ন্যায় পরাণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করার নির্বাচন। আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটি হবে- করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে যে নির্বাচন, এই নির্বাচনে অনেকে বলে ফজরের নামাজ পড়ে গিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে হবে। আমি বলি- না, ফজর না। এবার আপনাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে প্রস্তুতি নেবেন। ফজরের নামাজের আগে দরকার হলে ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে আপনারা ফজরের নামাজ পড়বেন, জামাত করে। তারপর সাতটা থেকে যখন ভোট শুরু হবে, সাথে সাথে ভোট দেওয়া শুরু করবেন আপনারা।’
তিনি বলেন,‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি, আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি- একটা রাজনৈতিক দল সবগুলো পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। খবর পেয়েছেন আপনারা? সজাগ থাকতে হবে। যেভাবে আগে ভোট চুরি হয়েছে, ডাকাতি হয়েছে, এখন এরা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। আপনার ভোট আপনার পরিচিত মানুষের ভোট কিন্তু দখলের চেষ্টা করছে। জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। শুধু সজাগ না, সতর্ক থাকতে হবে।’
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক দল- এই দলটা অনেক সময় বলছে অমুককে দেখেছেন ক্ষমতায় তমুককে দেখেছেন এবার আমাদেরকে দেখেন। ভাই ৭১ সালে কী হয়েছিল, ৭১ সালে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ মা-বোনের সম্মানের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু সেদিন আজকের এই রাজনৈতিক দলটি যারা বাংলাদেশকে স্বাধীন হতে দেয়নি তাদের পক্ষ নিয়েছিল। তাদের পক্ষ নেওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তাহলে কী দাঁড়ালো? যাদেরকে দেখার কথা বলছে এদেরকে তো আমরা ৫০ বছর আগে দেখেছি। তাদের ভূমিকা দেশের বিরুদ্ধে ছিল। কাজেই নতুন করে আর দেখবার কিছু নাই তাদেরকে।’
এর আগে দুপুরে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। পরে মৌলভীবাজারের শেরপুরে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি সন্ধ্যায় শায়েস্তাগঞ্জে পৌঁছান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









