ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জাতির সমস্ত মানুষের মুক্তির চিন্তা করি। আমরা নিজেদের ভোগবিলাস কিংবা দলীয় কর্মীদের পেট ভরার জন্য রাজনীতি করি না।’
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদকে নিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সে নিজেই বিদ্রোহী ও একটা বিপ্লবের নাম। সে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিল। এটাই তার অপরাধ। এ জন্য তাকে দুনিয়া থেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে বিদায় করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে, যেখানে মেধাবীদের মিলনমেলা।’
তিনি কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘এরা যা আচারণ করেছে, তা কোনো মানুষ করে না। এটা সাধারণ পশুও করে না। তারা হচ্ছে চার পায়া জন্তুর মতো। এরা ওই জন্তুগুলোর চেয়ে আরও খারাপ, আরও নিকৃষ্ট। বাংলাদেশের প্রত্যেক যুবক-যুবতী যেন একেকজন আবরার ফাহাদ হয়ে যায়।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘চব্বিশের দ্রোহ প্রমাণ করে দিয়েছে, বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না। এটা একটা স্বাধীন দেশের জন্য বিশাল শক্তির ব্যাপার; যাদের নেতৃত্বে এই জাতি চব্বিশের লড়াইয়ে অংশ গ্রহণ করে মুক্তি পেয়েছে।’
জুলাইয়ের সব যোদ্ধা ও শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এক আবরারকে বিদায় করেছে, এক আবু সাঈদকে বিদায় করেছে, কিন্তু মনে রাখবা, একেকটা বিপ্লবী হাজার নয়, লক্ষ নয়, কোটি বিপ্লবী দুনিয়ায় জন্ম দিয়ে তারা বিদায় নিয়েছে। ওই মায়েদের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যে মা তার সন্তান হারিয়েছে। এই মায়েদের দুয়ারে আমি হাজির হয়েছি। মায়েদের চোখেমুখে আমি পানি দেখিনি; তাদের চোখের কোনায় রক্ত দেখেছি।’
গুম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অসংখ্য মায়ের বুক থেকে, বোনের বুক থেকে তাদের আপনজনকে তুলে নিয়ে বছরের পর বছর আয়নাঘরে রাখা হয়েছে, গুম করে রাখা হয়েছে। বেশির ভাগই আমরা ফেরত পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। হয় জীবিত অথবা লাশ হিসেবে। কিছু এখনো পাইনি। তাদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন আছে। এ রকম আরও আটজন আছে, যাদের আজও খুঁজে পাইনি।’
নদী খননের জন্য প্রতিবছর বাজেট সম্পর্কে জামায়াতের আমির অভিযোগ করে বলেন, ‘নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে পেটের ভেতর চলে যায়। নদীর বালু আর ওঠে না। খননও হয় না। শুধু নদী নয়, উন্নয়নের নামে বিগত ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গেছে, এই একই কাজ তারা করেছে। তারা এই ৫৪ বছরে খামচে দেশকে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্র পরিবর্তন না হলে এই দেশকে ভালো কিছু দিতে পারবে না।’
কুষ্টিয়া থেকে চাল নিয়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, এতে চালকলের মালিক ও ট্রাকমালিকেরা অতিষ্ঠ। পণ্যের দাম কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটা কাজ করব—যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করব, সিন্ডিকেট ভেঙে একদম চুরমার করে দেব এবং চাঁদাবাজিতে যারা লিপ্ত, তাদের আমাদের বুকে টেনে নিয়ে ভালো কাজে লাগিয়ে দেব।’
মায়েদের পরম যত্নের সঙ্গে দুটি জিনিস নিশ্চিত করবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এক. তাদের মর্যাদা। দুই. তাদের নিরাপত্তা। বড় শহরগুলোয় তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস করব।’
বক্তব্যে শেষে জামায়াতের আমির কুষ্টিয়ার চারটি আসনের দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









