ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে দলীয় এজেন্টদের বের করে দেওয়া, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে ভোটগ্রহণ স্থগিত বা পুনঃভোটের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে জোটের প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
তিনি জানান, কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনায় দলীয় এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র, লিখিত অভিযোগ ও প্রার্থীর আবেদনপত্র সিইসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, ‘কুমিল্লা-৮ আসনের বড়ুরায় ভোট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই আমাদের প্রায় ৩০টি কেন্দ্রের এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করি।’
তার দাবি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল—যিনি একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সম্মানিত ব্যক্তি—নিজ হাতে লিখিত আবেদন দিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। সেই দরখাস্তের কপিও আমরা সিইসি মহোদয়ের কাছে জমা দিয়েছি।’
জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট স্থগিত অথবা পুনঃভোটের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটের খবর এলেও বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। এখন অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









