নীলফামারী–৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলমের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করা হয়েছে। আপিলকারী হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার।
গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সচিব বরাবর এ আপিল আবেদন দাখিল করা হয়। আপিলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অভিযুক্ত প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলমের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
আপিল আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৪(৪) অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলম তার দাখিলকৃত হলফনামায় বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, যা আইন অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিলের যথেষ্ট কারণ।
আপিলে আরও বলা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সম্পূরক বা সংশোধনমূলক হলফনামা দাখিল করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। অথচ একটি পুরোনো সম্পূরক হলফনামা গ্রহণ করে ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ মনোনয়নপত্রকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় উক্ত তথাকথিত সম্পূরক হলফনামা প্রকাশ করা হয়নি, যা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী বলে আপিলে দাবি করা হয়।
আপিলকারী আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে পুরোনো সম্পূরক হলফনামা গ্রহণ করা হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ও জালিয়াতির শামিল। এতে রিটার্নিং অফিসার আইন দ্বারা অর্পিত ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন,“প্রথমে যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে ঢাকায় থাকা মামলা ও জুলাই-আগস্টের গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা হয়েছে। পরে সম্পূরক হলফনামা দিয়ে তা স্বীকার করা হয়েছে। এটি একটি বড় ধরনের আইনগত ত্রুটি। এ কারণেই আমরা আপিল করেছি। আপিল বিভাগ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত ও সঠিক হবে।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন,“
বিএনপি প্রার্থী আমার বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছেন। আমি হলফনামায় জ্ঞাত সকল বিষয়ই উল্লেখ করেছি। শুধু আমার অজান্তে হওয়া একটি মামলার কোন তথ্য পুলিশ রেকর্ডে না পাওয়ায় সে সংক্রান্ত তথ্য সংযোজন করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মামলার বাদির মাধ্যমে আদালতেই করা এভিডেভিট জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তাই আশা করি শুনানীতে আমার মনোনয়ন বৈধ হিসেবেই গৃহিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিগত দ্বাদশ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। আওয়ামীলীগ বা জাতীয় পার্টির ছিলামনা। আমি কোন দখলবাজী, চাঁদাবাজির সাতে কখনই জড়িত হইনি। তাহলে কেন আমার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলা হবে। বরং আমার ছেলে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছিল এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক আরও বলেন,“গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নীলফামারী-৪ আসনের উন্নয়নের স্বার্থে তৎকালীন সরকার প্রধানের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছিলাম। সে কারণেই আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন,“আমি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সব মামলায় জামিন পেয়েছি এবং কয়েকটি মামলা ইতোমধ্যে খারিজ হয়েছে। আমি সৈয়দপুরের সন্তান। জনগণ যদি আবার আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে নীলফামারী-৪ আসনকে দেশের একটি মডেল আসনে পরিণত করব।”
কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









