দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের স্ক্রিনই ছিল প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রধান মাধ্যম। তবে এখন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট গ্লাস এবং ক্যামেরাসংবলিত ওয়্যারেবল ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতে স্ক্রিনে না তাকিয়েও বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল আগামী বছর ক্যামেরাসংবলিত নতুন প্রজন্মের এয়ারপডস বাজারে আনতে পারে। এসব ক্যামেরা ছবি বা ভিডিও তোলার জন্য নয়; বরং ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ভার্চুয়াল সহকারী সিরিকে আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। যদিও অ্যাপল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি বৃহত্তর একটি প্রবণতার অংশ। স্মার্ট গ্লাস, এআই পেনডেন্ট এবং অন্যান্য পরিধানযোগ্য ডিভাইস এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ব্যবহারকারীরা ফোনের স্ক্রিনে কম সময় ব্যয় করেও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
সম্প্রতি স্ন্যাপচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ ‘স্পেক্স’ নামে নতুন এআইচালিত স্মার্ট গ্লাস উন্মোচন করেছে। যুক্তরাজ্যে এর দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ১৯৫ ডলার। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই স্মার্ট গ্লাস ফোনের ওপর নির্ভর না করেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের এসব ডিভাইস ব্যবহারকারীদের আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য দিতে পারবে। যেমন—ফ্রিজে থাকা উপকরণ দেখে রেসিপির পরামর্শ দেওয়া, সামনে থাকা কোনো স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য জানানো বা বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে পথনির্দেশনা দেওয়ার মতো কাজ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি হাতের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। বিশেষ করে ক্যামেরাসংবলিত স্মার্ট গ্লাসের কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে অন্যরা বুঝতে না পেরেই এসব ডিভাইস দিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করা সম্ভব, যা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য হুমকি হতে পারে।
অন্যদিকে, অ্যাপল যদি ক্যামেরাসংবলিত এয়ারপডস বাজারে আনে, তবে সেটির তথ্য ডিভাইসের মধ্যেই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে গোপনীয়তা সুরক্ষার চেষ্টা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেন, অ্যাপল বিশ্বাসযোগ্য ব্যবহারিক প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত করবে না। তার মতে, ভবিষ্যতে এসব ডিভাইসের ব্যবহার কল্পনার সীমাকেও অতিক্রম করতে পারে।
তবে তিনি মনে করেন, স্মার্টফোনের যুগ এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং নতুন ওয়্যারেবল প্রযুক্তি স্মার্টফোনের বিকল্প নয়, বরং তার পরিপূরক হিসেবেই কাজ করবে। এতে ব্যবহারকারীরা স্ক্রিনে কম সময় কাটানোর সুযোগ পেলেও প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সংযোগ আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, প্রযুক্তি শিল্পের লক্ষ্য শুধু নতুন ডিভাইস তৈরি করা নয়, বরং মানুষের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরও স্বাভাবিক ও সহজ করে তোলা। তবে এই পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের জন্য আশীর্বাদ হবে, নাকি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তা সময়ই বলে দেবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









