চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বিজ্ঞানী অঁরি কাগান ও কেনসো সোআই। অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে ‘অরৈখিক প্রভাব ও স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন’ আবিষ্কারের জন্য তাদের এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) নোবেল কমিটি এ ঘোষণা দেয়। নোবেল সপ্তাহে চিকিৎসা ও পদার্থবিজ্ঞানের পর তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হলো রসায়নের এই পুরস্কার।
নোবেল কমিটির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হাইনার লিংকে বলেন, ‘‘এ বছরের পুরস্কার মৌলিক রসায়নের জন্য। অনেক অণু দুটি ভিন্ন রূপে থাকে, যেমন আমার দুই হাত। একটি অন্যটির আয়নার প্রতিবিম্ব। দেখতে একই রকম, কিন্তু হুবহু এক নয়। আমি এক হাতকে অন্য হাতের ওপর পুরোপুরি মেলাতে পারি না। এ ধরনের অণুকে বলা হয় কাইরাল। শব্দটি এসেছে হাত বোঝাতে গ্রিক শব্দ থেকে।’’
সুইডিশ উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। মূলত বিশ্বযুদ্ধের কারণে কয়েকবার এটি বন্ধ ছিল। পেশায় রসায়নবিদ নোবেল ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রধানত যুদ্ধসংক্রান্ত নানা উদ্ভাবন থেকে বিপুল সম্পদ গড়েছিলেন, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ডিনামাইট। অর্থনীতির পুরস্কারটি পরে যুক্ত হয়েছে এবং এর অর্থ জোগান সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পদার্থবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের আড়ালে অনেক সময় চাপা পড়ে গেলেও রসায়নের পুরস্কার বহু প্রভাবশালী আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে আছে নিউক্লিয়ার ফিশন ও জিন সিকোয়েন্সিং কৌশল।
গত বছর রসায়নে নোবেল পান সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর ইয়াঘি। তাদের স্বীকৃতি মেলে মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক উদ্ভাবনের জন্য। এগুলো এমন আণবিক কাঠামো, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।
শান্তি পুরস্কার আলাদাভাবে ওসলোতে দেওয়া হয়। এটিই একমাত্র নোবেল, যা সুইডেনে দেওয়া হয় না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









