আজ থেকে ১০ লাখ বছর পর পৃথিবীতে মানুষের চেহারা কেমন হবে? আমাদের কি তখনকার মানুষ বলে চিনতে পারা যাবে? নাকি শরীরে থাকবে কৃত্রিম অঙ্গ, চোখের জায়গায় ক্যামেরা, মস্তিষ্কে স্মৃতি ধরে রাখার যন্ত্র? মানুষের হাত-পা কি হবে আরও লম্বা, শরীর ছোট, কিংবা ত্বকের রং বদলে যাবে?
এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর কারও জানা নেই। তবে অতীতের দিকে তাকালে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। কারণ, মানুষ আজ যে রূপে পৃথিবীতে বাস করছে, বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসে সেটিই তার একমাত্র চেহারা নয়। আবার ভবিষ্যতের মানুষ কেমন হবে, তা শুধু প্রাকৃতিক বিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে না। প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশ, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং মানুষের নিজের সিদ্ধান্তও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দশ লাখ বছর আগের মানুষ
ভবিষ্যতের মানুষকে কল্পনা করতে হলে ফিরে তাকাতে হবে সুদূর অতীতে। প্রায় ১০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আজকের মানুষ, অর্থাৎ হোমো স্যাপিয়েন্স, ছিল না। তখন মানুষের বিবর্তনীয় বংশধারার একাধিক প্রজাতি পৃথিবীতে বিচরণ করত। তাদের মধ্যে ছিল হোমো হাইডেলবার্গেনসিস—যাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যে আরও প্রাচীন হোমো ইরেক্টাস এবং আধুনিক মানুষের সঙ্গে কিছু মিল ছিল। তবে তাদের শরীরের গঠন আধুনিক মানুষের মতো ছিল না। এরপর জলবায়ু, পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের বিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তন কখনো শরীরের গঠন, কখনো মস্তিষ্কের সক্ষমতা, আবার কখনো রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। গত ১০ হাজার বছরেও মানুষের জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন এসেছে। শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল জীবন থেকে মানুষ কৃষিনির্ভর সমাজে প্রবেশ করেছে। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, স্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে, শহরের জন্ম হয়েছে। তবে প্রাচুর্যের সঙ্গে এসেছে নতুন স্বাস্থ্যসমস্যাও। ডায়াবেটিসের মতো রোগের চিকিৎসায় ইনসুলিনের ব্যবহার দেখায়, মানুষ এখন শুধু পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে না; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবেশের তৈরি কিছু সমস্যার মোকাবিলাও করছে। চেহারাতেও পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক মানুষের শরীরে স্থূলতা বেড়েছে, আবার কিছু জনগোষ্ঠীর মানুষের গড় উচ্চতাও বেড়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের সবই জিনগত বিবর্তনের ফল নয়; খাদ্য, স্বাস্থ্য, জীবনযাপন ও সামাজিক পরিস্থিতিও এর জন্য দায়ী। লন্ডনের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইনফরমেটিকস ও বিগ ডেটাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক টমাস মেইলুন্ড মনে করেন, ভবিষ্যতে মানুষ আরও ছোট আকারের হতে পারে। তাঁর যুক্তি, শরীর ছোট হলে শক্তির চাহিদাও কমতে পারে। জনসংখ্যায় ঠাসা পৃথিবীতে কম শক্তি ব্যয় করে বেঁচে থাকা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাবনা মাত্র, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

ভিড়ের পৃথিবীতে বদলাবে মস্তিষ্কও?
মানুষের বিবর্তনে শুধু শরীর নয়, সামাজিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। একসময় শিকারি-সংগ্রাহক মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগের পরিসর ছিল তুলনামূলক ছোট। আজ কোটি কোটি মানুষের শহরে আমাদের প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, কথা বলতে হয়, কাজ করতে হয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মানুষের মস্তিষ্ক ও আচরণে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? মেইলুন্ডের মতে, অন্য মানুষের পরিচয় মনে রাখার মতো সামাজিক দক্ষতা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখানেই প্রযুক্তি বিবর্তনের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। মেইলুন্ডের ধারণা, একদিন মস্তিষ্কে এমন ইমপ্ল্যান্ট বা যন্ত্র বসানো সম্ভব হতে পারে, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে। মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও স্মৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিন সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অনেক কিছু জানেন। কিন্তু শুধু জিনের ভূমিকা জানা আর সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কার্যকর স্মৃতিবর্ধক প্রযুক্তি তৈরি করা এক বিষয় নয়। মেইলুন্ডের ভাষায়, এটি এখন আর পুরোপুরি জীববিজ্ঞানের প্রশ্ন নয়; প্রযুক্তির প্রশ্নও। এ ধরনের প্রযুক্তির প্রাথমিক রূপ অবশ্য ইতিমধ্যেই রয়েছে। হৃদ্যন্ত্রের ছন্দ ঠিক রাখতে পেসমেকার কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হিপের জায়গায় কৃত্রিম অঙ্গ বসানো হয় চিকিৎসার প্রয়োজনে। ভবিষ্যতে শরীরে যন্ত্র বসানোর উদ্দেশ্য হয়তো শুধু রোগ সারানো থাকবে না; সুস্থ মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোও হতে পারে লক্ষ্য।
কল্পনা করা যায়, চোখের জায়গায় এমন কৃত্রিম চোখ বসানো হয়েছে, যা মানুষের স্বাভাবিক দৃষ্টির বাইরে বিভিন্ন ধরনের আলো শনাক্ত করতে পারে। কিংবা মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত কোনো যন্ত্র স্মৃতি, মনোযোগ বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করছে। তখন মানুষ আর কেবল জৈবিক শরীরের প্রাণী থাকবে না; শরীরের সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্কও তার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনার অনেকটাই এখনো পরীক্ষামূলক বা কাল্পনিক। প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব হলেও তা নিরাপদ, কার্যকর ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন।
“মানুষের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর মস্তিষ্ক গঠনে কোন কোন জিন ভূমিকা রাখে, তা আমরা জানি। চাইলে হয়তো সেই জিনগুলো পরিবর্তনও করতে পারি।”
টমাস মেইলুন্ড
সহযোগী অধ্যাপক, বায়োইনফরমেটিকস
মানুষের চেহারা কি বাবা-মায়ের পছন্দে তৈরি হবে? প্রযুক্তি মানুষের বিবর্তনে আরেকটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে জিন সম্পাদনার মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে ভ্রূণের জিন পরিবর্তনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এর ব্যবহার নিয়ে গুরুতর নৈতিক বিতর্ক রয়েছে। কোন পরিবর্তন নিরাপদ, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি জানা নেই। মেইলুন্ডের ধারণা, ভবিষ্যতে কোনো কোনো জিন পরিবর্তন না করাকেও অনৈতিক বলে মনে করা হতে পারে, বিশেষ করে যদি সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো গুরুতর রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বেছে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে। এতে এক ধরনের কৃত্রিম নির্বাচন শুরু হতে পারে। যেমন, মানুষ বহু প্রজন্ম ধরে কুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বেছে প্রজনন করিয়েছে, ভবিষ্যতে তেমনভাবে মানুষের বৈশিষ্ট্য নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। একটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে একাধিক জিন যুক্ত থাকতে পারে, আবার একই জিন শরীরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চেহারা বা উচ্চতার মতো কোনো বৈশিষ্ট্য নির্ভুলভাবে বেছে নেওয়া সহজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বৈষম্য, সামাজিক চাপ এবং মানুষের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নৈতিক প্রশ্ন। অর্থাৎ, প্রযুক্তি মানুষের শরীর বদলানোর সুযোগ তৈরি করলেও সেই সুযোগ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণ করবে বিজ্ঞান ছাড়াও সমাজের মূল্যবোধ ও নীতিবোধ।
ভবিষ্যতের মানুষ কি আরও গাঢ় ত্বকের হবে?
মানুষের চেহারা কীভাবে বদলাতে পারে, তা বোঝার আরেকটি উপায় হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা। বংশগত বৈশিষ্ট্য কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে, তা নিয়ে কাজ করেন বায়োইনফরমেটিকসের গবেষকেরা। তাঁরা জিনগত বৈচিত্র্যের তথ্যের সঙ্গে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, অভিবাসন ও প্রজননের প্রবণতা মিলিয়ে ভবিষ্যতের কিছু সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেন। গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট বিষয়ের প্রভাষক জেসন এ হজসনের মতে, ১০ লাখ বছর পর মানুষের চেহারা কেমন হবে, তা নির্ভুলভাবে বলা নিছক কল্পনা। তবে অপেক্ষাকৃত নিকট ভবিষ্যতে জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রভাব কিছুটা অনুমান করা সম্ভব।

তিনি মনে করেন, শহর ও গ্রামের মানুষের জিনগত বৈচিত্র্যে পার্থক্য বাড়তে পারে। কারণ, গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন হলে শহরে বিভিন্ন বংশগত পটভূমির মানুষের সংখ্যা বাড়ে। বিপরীতে, কোনো কোনো গ্রামীণ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। তবে এই প্রবণতা সব দেশ বা অঞ্চলে একই রকম হবে না। জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর জন্মহার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিরও প্রভাব রয়েছে। আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে বিশ্ব জনসংখ্যার মধ্যে সেসব অঞ্চলের মানুষের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া জিনের অনুপাতও বাড়তে পারে। ত্বকের রং নিয়েও হজসন একটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তাঁর ধারণা, বিশ্ব জনসংখ্যার সামগ্রিক হিসাবে গাঢ় ত্বকের মানুষের অনুপাত বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের পূর্বাভাসকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। ত্বকের রং বহু জিনের প্রভাবে নির্ধারিত হয়, আর জনসংখ্যার পরিবর্তন, অভিবাসন, প্রজননের ধরন ও পরিবেশ—সবকিছুই দীর্ঘমেয়াদে জিনগত বৈচিত্র্যে ভূমিকা রাখে।
মঙ্গলগ্রহে গেলে কেমন হবে মানুষের শরীর?
পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও ভবিষ্যৎ বিবর্তনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি একদিন মঙ্গলগ্রহে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে, তবে সেখানকার পরিবেশ শরীরের ওপর কী প্রভাব ফেলবে? মঙ্গলের অভিকর্ষ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করলে মানুষের পেশি ও হাড়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শরীরের গঠনে কোনো পরিবর্তন ঘটবে কি না, তা নির্ভর করবে জিনগত পরিবর্তন, প্রাকৃতিক নির্বাচন, জীবনযাপন এবং প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবেশকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে তার ওপর। দীর্ঘ হাত-পা কিংবা শরীরের অন্য কোনো গঠনগত পরিবর্তনের কথা কল্পনা করা যায়, কিন্তু এগুলো এখনো অনুমানমাত্র। একইভাবে, পৃথিবীতে যদি আবার দীর্ঘস্থায়ী বরফযুগের মতো শীতল পরিবেশ তৈরি হয়, তবে শরীরের তাপ ধরে রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলো নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে। নিয়ান্ডারথালদের মতো মানুষের প্রাচীন আত্মীয়দের শরীর ছিল তুলনামূলকভাবে বলিষ্ঠ। তবে ভবিষ্যতের মানুষও একই পথে বিবর্তিত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। পোশাক, ঘরবাড়ি, উত্তাপের ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্রাকৃতিক পরিবেশের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
“১০ লাখ বছর পর মানুষ দেখতে কেমন হবে, তা অনুমান করা নিছক কল্পনা। তবে বায়োইনফরমেটিকসের সাহায্যে তুলনামূলকভাবে নিকট ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া সম্ভব।”
ড. জেসন এ. হজসন
প্রভাষক, গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট
দশ লাখ বছর পরের মানুষ কি আজকের মতো থাকবে?
মানুষের জিনে পরিবর্তন ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। হজসনের হিসাব অনুযায়ী, মানুষের জিনোমে থাকা প্রায় ৩৫০ কোটি বেস পেয়ার বা ডিএনএর ভিত্তি-জোড়ার বিপরীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুটি নতুন মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এগুলোর সবই পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে না, আবার সব পরিবর্তন চেহারা বা স্বাস্থ্যে দৃশ্যমান প্রভাবও ফেলে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। তবে বিবর্তন মানেই যে মানুষ ক্রমাগত আরও উন্নত হবে, এমন নয়। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই বিবর্তনের মূল বিষয়; এর কোনো নির্দিষ্ট শেষ লক্ষ্য নেই। কোনো বৈশিষ্ট্য এক পরিবেশে সুবিধা দিতে পারে, অন্য পরিবেশে সেটিই অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। তাই ১০ লাখ বছর পর মানুষের চেহারা কেমন হবে, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। হয়তো আমাদের উত্তরসূরিদের শরীর আজকের মানুষের মতোই থাকবে, কিন্তু তাঁদের জীবনযাপন হবে সম্পূর্ণ আলাদা। হয়তো প্রযুক্তি তাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। আবার জলবায়ু, খাদ্যাভ্যাস, অভিবাসন ও জিনগত পরিবর্তনের দীর্ঘ প্রভাবে তাঁদের চেহারাতেও আসবে নতুন বৈশিষ্ট্য।
একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট: মানুষ কখনোই এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকেনি। বিবর্তন চলেছে, চলছে, চলবে। আর ভবিষ্যতের মানুষকে গড়ে তুলবে শুধু প্রকৃতি নয়—মানুষ নিজেও, তার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









