বেইজিংয়ে বসে উপন্যাস লেখেন ঝাং ইউয়েরান। সমকালীন চীনা নারীদের অন্তর্জগৎ, সম্পর্ক ও সামাজিক অবস্থান তার লেখার অন্যতম প্রধান বিষয়। সাতটি উপন্যাসের লেখক ঝাং এখন চীনা সাহিত্যের সেই নতুন প্রজন্মের অংশ, যাদের লেখা দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তের পাঠকের কাছে।
তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘উইমেন, সিটেড’ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সহযোগী জেরেমি তিয়াং বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। বেইজিংয়ের উচ্চবিত্ত পরিবারের পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাসে উঠে এসেছে সমকালীন চীনের শ্রেণিবৈষম্য, নারীর অবস্থান এবং পারিবারিক ক্ষমতার সম্পর্ক। চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখালেখি পড়ান ঝাং। বেইজিংয়ে নিজের বাড়িতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন লেখালেখির প্রেরণা, বিদেশি পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক, অনুবাদের চ্যালেঞ্জ এবং চীনা সাহিত্যে নারীর অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। দৈনিক এদিন অনলাইন সাক্ষাৎকারটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করল।

লেখালেখির প্রেরণা কোথা থেকে পান?
ঝাং ইউয়েরান: খুব ছোটবেলা থেকেই লিখছি। তখন মনে হতো, লেখালেখির মাধ্যমে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করতে পারব। এই পৃথিবীতে আমার অস্তিত্ব যে স্বতন্ত্র, তার প্রমাণ খুঁজতাম লেখার মধ্যে। লেখার অনুপ্রেরণা আসে মূলত জীবন থেকে। একসময় বুঝেছি, বাস্তব জীবনই আমাদের সবচেয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করে। আশপাশের মানুষের গল্প, নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা—এসবই লেখার উপাদান হয়ে ওঠে। সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা হলেই যে তা ভালো গল্প হবে, এমন নয়। বরং যেসব চরিত্রের সঙ্গে আমরা গভীরভাবে যুক্ত হতে পারি, যাদের অভিজ্ঞতা আমাদের ভেতরের অনুভূতিকে নাড়া দেয়, তারাই শেষ পর্যন্ত আমার কথাসাহিত্যে জায়গা করে নেয়।
‘উইমেন, সিটেড’ উপন্যাসে বেইজিংয়ের উচ্চবিত্ত পরিবারের জীবন উঠে এসেছে। গৃহকর্মী ও অভিজাত পরিবারের সম্পর্ক নিয়ে লিখতে আগ্রহী হলেন কেন?
ঝাং ইউয়েরান: গৃহকর্মীকে আমি শুধু একটি পেশার মানুষ হিসেবে দেখি না; তার পরিচয় ও অবস্থানও আমাকে ভাবায়।চীনে অনেক গৃহকর্মী বছরের পর বছর একটি পরিবারের সঙ্গে থাকেন। কখনো কখনো তারা এক দশকও সেখানে কাটান। একটি শিশুকে বড় হতে দেখেন, পরিবারের সুখ-দুঃখের সাক্ষী হন। তারা পরিবারের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠেন, অথচ পুরোপুরি সেই পরিবারের সদস্য হতে পারেন না।
তারা একই সঙ্গে পরিবারের ভেতরে এবং বাইরে। একদিকে তারা দৈনন্দিন জীবনের অংশ, অন্যদিকে অনেক কিছুই দেখেন একজন পর্যবেক্ষকের চোখে। গল্প বলার জন্য এই অবস্থানটি আমার কাছে খুবই আকর্ষণীয়। ‘উইমেন, সিটেড’ উপন্যাসে পরিবারের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। বিশৃঙ্খলা শুরু হলে গৃহকর্মীটি ক্রমে কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠেন এবং বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। এরপর বিভিন্ন মানুষ নানা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সেখানে আসতে থাকেন। পরিস্থিতি তার মানবিকতার পরীক্ষা নেয়। একই সঙ্গে তিনি নিজেকেও নতুন করে চিনতে শুরু করেন।
পুরুষদের বদলে বাড়িতে থেকে যাওয়া নারীদের চোখ দিয়ে গল্পটি বললেন কেন?
ঝাং ইউয়েরান: সহজভাবে বললে, পুরুষদের ক্ষমতার লড়াই নিয়ে আমার বিশেষ আগ্রহ নেই। সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যভিত্তিক লেখায় এসব নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি নতুন নয়। একজন পাঠক ‘উইমেন, সিটেড’ সম্পর্কে আমাকে একটি সুন্দর উপমা দিয়েছিলেন। তার মতে, উপন্যাসের নারীরা যেন পুরুষদের ঘিরে ঘুরতে থাকা গ্রহ। এর অর্থ এই নয় যে নারীরা নিষ্ক্রিয়। বরং তাদের আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় পুরুষদের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে আটকে থাকে। তাঁরা প্রায়ই আটকে পড়া পুরুষদের কিংবা পুরো পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিজেদের স্বাধীনতার দিকে তাদের যাত্রা।

প্রশ্নটি হলো, তারা কি পুরুষদের কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারবেন? শুধু অন্যের চারপাশে ঘুরতে থাকা উপগ্রহ না থেকে নিজেরাই কি স্বতন্ত্র নক্ষত্র হয়ে উঠতে পারবেন?
বিদেশি পাঠকেরা কি এখন আপনার লেখাকে চিনা সমাজের পরিচয় জানার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সাহিত্য হিসেবে মূল্যায়ন করছেন?
ঝাং ইউয়েরান: হ্যাঁ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পরিবর্তন অনুভব করেছি। বহু বছর আগে বেইজিংয়ের ‘দ্য বুকওয়ার্ম’ ক্যাফের মতো জায়গায় বিদেশি পাঠকদের সঙ্গে দেখা হতো। তখন তারা চীনা সাহিত্যকে অনেকটা ভ্রমণগাইডের মতো দেখতেন—যেন বই পড়ে চিনা সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। সাহিত্য যেন ‘লোনলি প্ল্যানেট’ ভ্রমণগাইডের একটি সাহিত্যিক সংস্করণ। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তথ্য সহজেই পাওয়া যায়। কোনো সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য সাহিত্যকে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন আর নেই।
এখন পাঠকেরা বইয়ের চিত্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন করেন, চরিত্রগুলো কেন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানতে চান। এসব প্রশ্নের সঙ্গে লেখকের জাতীয়তার সরাসরি সম্পর্ক নেই। কোনো বিদেশি পাঠক যখন বলেন, তিনি একটি চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে নিজেকে মেলাতে পেরেছেন, চরিত্রটির অভিজ্ঞতা তার নিজের জীবনেরও কাছাকাছি মনে হয়েছে—তখন লেখক হিসেবে সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার লেখা পড়ে পাঠকেরা যেন শুধু ‘চিনকে বুঝতে’ না চান। আমি চাই, তারা লেখার মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পান, যা তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গেও কথা বলে।
ইংরেজি অনুবাদের কাজে কতটা যুক্ত ছিলেন? সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কি ছিল?
ঝাং ইউয়েরান: অনুবাদে কিছু বিষয় হারিয়ে যাওয়া অনিবার্য। তবু অনুবাদকের ওপর আস্থা রাখতে হয়। আমার অনুবাদক জেরেমি তিয়াং অসাধারণ। আমরা বহু বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছি। অনুবাদের সময় তাকে বলেছিলাম, কোনো কিছু অন্য ভাষায় ঠিকমতো প্রকাশ করা কঠিন হলে আমরা মূল লেখাটি বদলে নিতে পারি, যাতে নতুন ভাষার পাঠকের কাছে তা স্বাভাবিকভাবে পৌঁছায়। তার অনুবাদভঙ্গি বইটির সংশোধিত চীনা সংস্করণকেও প্রভাবিত করেছে। ফলে বইটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংক্ষিপ্ত ও সংহত হয়েছে।
এর একটি উদাহরণ হলো ‘রাজহাঁস’ ও ‘বুনো হাঁসের’ চিত্রকল্প। চীনা ভাষায় এই দুই পাখিকে বোঝানো শব্দের মধ্যে সামাজিক মর্যাদার একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। উপন্যাসে গৃহকর্মীকে বুনো হাঁস এবং অভিজাত মাকে রাজহাঁসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বইয়ের শিশুচরিত্রটি এতটাই ছোট যে সে ভাষাগত বা চেহারাগত দিক থেকে এই দুই পাখির পার্থক্য বুঝতে পারে না। তার চোখে গৃহকর্মীও সেই একই পাখি। শিশুটির এই সরল দৃষ্টিভঙ্গি শ্রেণিবৈষম্য ও মাতৃত্ব নিয়ে গভীর অর্থ তৈরি করে।কিন্তু ইংরেজিতে ‘গুজ’ ও ‘সোয়ান’—এই দুটি শব্দের মধ্যে চীনা ভাষার মতো সামাজিক মর্যাদার অন্তর্নিহিত পার্থক্য নেই। ফলে শিশুটির নিষ্পাপ বিভ্রান্তি এবং তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা শ্রেণিসমালোচনার একটি স্তর ইংরেজি পাঠকের কাছে হারিয়ে যায়।

আপনার মতো ঝাং ইউয়েরান, ইয়ান গে ও শুয়াং শুয়েতাওয়ের মতো নতুন চিনা ঔপন্যাসিকদের জন্য আন্তর্জাতিক প্রকাশনার জগতে কী বদলেছে?
ঝাং ইউয়েরান: আগে চীনা সাহিত্য নিয়ে বই প্রকাশ ও সুপারিশের ক্ষেত্রে সিনোলজিস্টদের—অর্থাৎ চীনের ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের—ভূমিকা ছিল অনেক বেশি। তাদের সুপারিশ করা বই মূলত তারাই পড়তেন, যারা চীনা সংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনা করতেন। এই ব্যবস্থা সাধারণ পাঠকের মধ্যে চিনা সাহিত্যের বিস্তৃত পাঠকসমাজ গড়ে তুলতে পারেনি। এখন লেখক ও পাঠকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশের স্বাধীন বইয়ের দোকানের মালিক, বুক ক্লাবের আয়োজক এবং ইনস্টাগ্রামে সাহিত্য নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা চীনা ভাষায় লেখা বইয়ের প্রতি সত্যিকারের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা নিজেদের অনুসারীদের এসব বই পড়তে উৎসাহিত করছেন। তবে এই পরিবর্তনের পেছনে অনুবাদকদের কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। জেরেমি তিয়াংয়ের মতো অনুবাদকেরা অনেক সময় নিজের আগ্রহ থেকেই বইয়ের নমুনা অনুবাদ করেন, প্রকাশকদের কাছে বইয়ের প্রস্তাব পাঠান এবং প্রকাশনার পথ তৈরি করেন। একটি বইকে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছাতে অনুবাদক, সম্পাদক ও প্রকাশক—প্রতিটি পর্যায়ে এমন মানুষ প্রয়োজন, যারা বইটির প্রতি আন্তরিকভাবে আগ্রহী এবং একে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
কোন কোন পশ্চিমা লেখক আপনার লেখায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন?
ঝাং ইউয়েরান: কাজুও ইশিগুরোর ‘দ্য রিমেইনস অব দ্য ডে’ বইটি ‘উইমেন, সিটেড’ লেখার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। উপন্যাসটিতে একজন পুরুষ গৃহপরিচারক ও তার মনিবের সম্পর্ক উঠে এসেছে। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার দীর্ঘদিনের শ্রম ও আনুগত্যের কোনো অর্থ ছিল কি না।
বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছিল, গৃহপরিচারকটি যদি পুরুষের বদলে নারী হতেন, তাহলে গল্পটি কেমন হতো?
ঝাং ইউয়েরান: একজন নারী যখন কোনো শিশুর যত্ন নেন, তখন সেই শিশু, বাড়ি ও পরিবারের সঙ্গে তার যে আবেগের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা একজন পুরুষ গৃহপরিচারকের অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা হতে পারে। চীনে আমরা এমন এক সাহিত্যিক পরিবেশে বড় হয়েছি, যেখানে পুরুষ লেখকদের কণ্ঠ প্রায় সবকিছু ছাপিয়ে ছিল। চীনা সাহিত্যের ‘ক্ল্যাসিক’ বা স্বীকৃত সাহিত্যিক ঐতিহ্যের দিকে তাকালে মনে হতো, পুরুষদের বিশাল সমুদ্রের মধ্যে আইলিন চ্যাং কিংবা সিয়াও হংয়ের মতো মাত্র কয়েকটি নারী-কণ্ঠ বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো টিকে আছে।
এই ঘাটতি পূরণের জন্য আমরা পাশ্চাত্যের নারী লেখকদের দিকে তাকিয়েছি। অ্যালিস মানরো, মার্গারেট অ্যাটউড ও এলেনা ফেরান্তের লেখা আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আমি এই ঘাটতিকে বলি ‘নান্দনিক শূন্যতা’। নারী চরিত্রের অন্তর্জগৎ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখার যে উপকরণ আমাদের নিজস্ব সাহিত্যিক ঐতিহ্যে সব সময় সহজলভ্য ছিল না, তাদের লেখা সেই উপকরণ দিয়েছে। তাদের পড়া ছিল যেন নিজের সৃজনশীল পরিচয়ের হারিয়ে যাওয়া অংশগুলো খুঁজে পাওয়া।
চীনা সাহিত্যে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ঝাং ইউয়েরান: আমি এমন একটি সাহিত্যিক উত্তরাধিকার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি, যা চীনে বহুবার চাপা পড়েছে। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে নারীদের আত্মজীবনীমূলক কথাসাহিত্যের একটি প্রাণবন্ত ধারা তৈরি হয়েছিল। লেখকেরা নিজেদের জীবন ও শরীর নিয়ে অকপটে লিখছিলেন। কিন্তু এই সাহিত্যধারা কঠোর সমালোচনা ও দমনের মুখে পড়ে। এগুলোর পরিণতি শুধু সেন্সরশিপের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর ফলে লেখকদের মনেও পরিবর্তন আসে। পরবর্তী প্রজন্মের বহু নারী লেখক নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে ভয় পেতে শুরু করেন। তারা ভাবতেন, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা নারীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলে তাদের লেখাকে ‘অশালীন’, ‘চটকদার’ বা ‘যৌন আবেদনপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেওয়া হবে।
বুদ্ধিবৃত্তিক লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে তাদের পুরুষদের মতো লিখতে হবে—বৃহৎ ইতিহাস, বিমূর্ত ধারণা ও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে। এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। আমার বিশ্বাস, আমাদের সাহিত্য-ইতিহাসের এই ছিন্ন হয়ে যাওয়া ধারাগুলোকে আবার জোড়া লাগাতে হবে। ছি বাংইউয়ানের ‘দ্য গ্রেট রিভার’ –এর মতো স্মৃতিকথা হোক, কিংবা ওয়েই হুই ও মিয়ান মিয়ানের লেখা—নারীদের জীবন থেকে উঠে আসা এসব আখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীর দৃষ্টিভঙ্গি বাদ দিলে আমাদের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এই গল্পগুলোকে আবার সামনে আনতে হবে। তাহলেই চীনা সাহিত্যের মানচিত্র পূর্ণতা পাবে।

পরিচিতি
ঝাং ইউয়েরান চীনের একজন ঔপন্যাসিক ও লেখক। ১৯৮২ সালে চীনের শানডং প্রদেশের জিনান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। স্কুলে পড়ার সময় একটি জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান। পরে তিনি শানডং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর সিঙ্গাপুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
ঝাং ইউয়েরান বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও ছোটগল্পের বই লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে কোকুন এবং উইমেন, সিটেড। তার লেখা কোকুন উপন্যাসটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৯ সালে উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ এশিয়ার সেরা উপন্যাসের পুরস্কার লাভ করে। তিনি চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য ও সৃজনশীল লেখালেখি শেখান। তার লেখায় মানুষের সম্পর্ক, পারিবারিক জীবন এবং সমাজের নানা বিষয় উঠে আসে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









