শেষ হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। শহর-নগর-বন্দরে এখন পুরোদমে ভোটের আমেজ। শেষ মুহূর্তে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ কষছেন ভোটাররা। নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন প্রার্থীরাও। এ নির্বাচনে গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে নারী ও তরুণদের ভোট। ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখবে প্রবাসী ও তাদের পরিবার এবং সনাতন ভোটাররা। তবে ফ্লোটিং ভোটার হিসেবে থাকছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটাররা। আগামী ৫ বছরের জন্য ক্ষমতার মসনদে কারা বসবে, তা ঠিক করবে এই ৫ শ্রেণির ভোটাররাই। যদিও দলগুলোর নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তবুও জয়-পরাজয়ে নিয়ামক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসুসহ ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে তরুণদের ভোটের বড় অংশ জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় পড়তে পারে। আবার তরুণদের একটা অংশ জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকেই বেছে নেবে। এক্ষেত্রে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিকদল বিএনপি কিছুটা পিছিয়ে থাকবে। কেননা, তরুণদের আকৃষ্ট করতে তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নিজস্ব কোনো কর্মযজ্ঞ নেই। অপরদিকে নির্বাচনি মাঠে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নারী ভোটাররা। দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার নারী।
নারীদের ভোট সবসময় বিএনপি বেশি পেলেও এবার জামায়াতের নারীকর্মীদের বিচরণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের দাবি প্রথমে জামায়াতের পক্ষে তোলায় অধিকাংশ ভোট জামায়াতের পক্ষেই আসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট বেশি বিএনপি পেলেও এবারই প্রথম জামায়াতের বড় ভাগ বসবে সনাতনী ভোটে। অবশ্য ভোটে না থাকা আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে বিএনপি-জামায়াতে যাবে সমান ভাগে। ফলে এই পাঁচ শ্রেণির ভোট যেদিকে যাবে নির্বাচনি খেলা সেদিকেই ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন, যাদের প্রায় অর্ধেকই তরুণ। তথ্য বলছে, দেশে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী মোট তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ জন, যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ ছাড়া নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। যা এবারের ভোটের ফল নির্ধারণে এসব তরুণ এবং নারী ভোটার অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে মোট ভোটার ছিলেন ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে বর্তমান ইসি। গত ১৭ বছরে ভোটার বেড়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮-২১ বছরের ভোটার ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮ জন, ২২-২৫ বছরের ভোটার ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬, ২৬-২৯ বছরের ভোটার ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২, ৩০-৩৩ বছরের ভোটার ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার ৬১৫, ৩৪-৩৭ বছরের ভোটার ১ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫, ৩৮-৪১ বছরের ভোটার ১ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০, ৪২-৪৫ বছরের ভোটার ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২, ৪৬-৪৯ বছরের ভোটার ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩, ৫০-৫৩ বছরের ভোটার ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০, ৫৪-৫৭ বছরের ভোটার ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮, ৫৮-৬০ বছরের ভোটার ৫১ লাখ ৮১ হাজার ১০৩ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪ জন।
বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি অধিকাংশ তরুণ ভোটার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বর্জন করে। ফলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন ১৫৩ জন এবং ভোট পড়ে মাত্র ৪০ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নিলেও ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৩টিতেই এমন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিরোধী দলগুলো দাবি করে, নির্বাচন শুরু হওয়ার আগের রাতেই ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট পড়ে ৪১ দশমিক ৮০ শতাংশ। বিরোধী দলগুলো বর্জন করায় আওয়ামী লীগ নিজেদের ‘ডামি প্রার্থী’দাঁড় করিয়ে প্রতিযোগিতার আবহ তৈরির চেষ্টা করে। এসব নির্বাচনে অনেক তরুণ ভোটার ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন।
ভোট দিতে তরুণদের আগ্রহের বিষয়টি বিভিন্ন জরিপেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) ‘ইয়ুথ ম্যাটারস সার্ভে ২০২৫’-এ দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৫৪৫ জন উত্তরদাতার ৯৭ শতাংশই ভোট দিতে চান। পরবর্তী পাঁচ বছরের অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে ৬৭ শতাংশ দুর্নীতি নির্মূল, ৫৬ শতাংশ বেকারত্ব দূরীকরণ, ২৪ শতাংশ নিরাপত্তা এবং ১৪ শতাংশ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী। ৪ হাজার ৯৮৫ জনের মধ্যে পরিচালিত জরিপে ৬৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন অতীতের নির্বাচনগুলোয় কারচুপি হয়েছে, তবু ৮০ শতাংশ আশাবাদী যে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।
ভোটে সরাসরি নারী প্রার্থী না দিলেও নারী কর্মীদের খুব জোরালোভাবেই মাঠে নামিয়েছে নারী কর্মীদের। বিগত ১৬ বছরে প্রকাশ্যে কাজ করতে না পারলেও ভেতরে ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করেছে মাহিলা জামায়াত। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের নারীদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় নারীদের ওপর হামলার খবর শোনা যাচ্ছে। আবার প্রথমবারের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু বিরল দৃশ্য দেখা গেছে। নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে মহিলা জামায়াতকে। মিছিলগুলোতে উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। আবার বিভিন্ন জেলা সমাবেশগুলোতেও নারী কর্মীদের অংশ নিতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে অন্যান্য দলগুলোর থেকে জামায়াতের নারীদের সক্রিয়তা বেশি দেখা গেছে। নির্বাচনে নারী ভোটারদের বড় অংশকে নিজেদের পক্ষে আনার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীকেও নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। ভোটের প্রচার কার্যক্রমে দলটি এবার নারী কর্মীদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির উদ্যোগে বিভিন্ন আসনে নারীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো সমাবেশ করতেও দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই উদ্যোগ তাদের প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও এতদিন জামায়াতে ইসলামীর নারী ভোট মূলত পরিবার কিংবা স্বামীর মাধ্যমে এসেছে। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে নারী কর্মীদের সরাসরি মাঠে নামানো হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের নীতিনির্ধারকদের কারও কারও ধারণা, প্রচার কাজে নারীদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণের মধ্যে দলটির নারীবিরোধী ইমেজ ভাঙা সম্ভব হবে, যা ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরো বলা হয়েছে, নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধিদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে, যার সংখ্যা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমানো হবে। এ ছাড়া ১৫ নম্বর দফায় বলা হয়েছে আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এসএমই খাতে ক্যাশফ্লোভিত্তিক ঋণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, নিবন্ধন খরচ হ্রাস ও প্রথম পাঁচ বছরের করমুক্তি নিশ্চিত করা হবে।
অন্যদিকে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নারীরাও তাদের ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অবস্থানের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারীর প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। আর সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘিরেও নারীদের ভোট পাওয়ার জন্য চলছে বিশেষ প্রচারাভিযান। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররা আগের যে কোনোবারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।
বিশ্লেষকদের অনুমান, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তরুণ ভোটাররা হয়ে উঠতে পারেন নির্ণায়ক শক্তি। যোগ্য প্রতিনিধি বাছাইয়ের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত তারা। নিজেদের প্রথম ভোট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে, এমন প্রত্যাশা তরুণদের। বয়স্কদের পাশাপাশি এবার সমানতালে সক্রিয় তারাও, ঘরে, ক্যাম্পাসে, এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। বিভিন্ন জরিপে তরুণদের অভিমত জামায়াতের পক্ষে বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে তারুণ্যনির্ভর রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট হওয়ায় তরুণ ভোটারদের পাল্লা আরও ভারি হয়েছে বলে মনে করছে অনেকেই।
এছাড়া সম্প্রতি ডাকসু, জাকসু, রাক, চকসু ও জকসুসহ ছাত্রসংদ নির্বাচনগুলো ভোট দিয়েছেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। প্রায় সব ছাত্রসংসদেই জামায়াতের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা ভূমিধস জয় অর্জন করেছেন। যার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও জোরালোভাবে পড়বে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। যেটাকে তারুণ্যের জোয়ার হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রবাসীদের ভোটে অন্তর্ভুক্ত করতে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল জামায়াত। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাত লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন এবং পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন চার লাখ ৮২ হাজার ৮১৭ জন। জামায়াতের ধারণা প্রবাসীদের বেশিরভাগ ভোট দাঁড়িপাল্লায় দিকেই আসবে। তারা দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের মাঝে কাজ করছে। সম্প্রতি নির্বাচনি ইশতেহারেও জামায়াত প্রবাসীদের জন্য বেশকিছু প্রতিশ্রুতি রেখেছে। তবে প্রবাসীদের ভোটের পরিমাণটা কম হলেও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোট একই দিকে ছুটতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যা ভোটের মাঠে বেশ প্রভাব ফেলবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীরা দেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে উৎসাহিত করছে। প্রবাসীরা বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি এনসিপির পক্ষেও ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এবারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কাজ করবে সনাতনী (সংখ্যালঘু) ভোটাররা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হিন্দু ভোটারদের সমর্থনে পাল্টে যেতে পারে জয়-পরাজয়ের হিসাব। কাজেই হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক ভোটারের সমর্থন পেতে বেশ তৎপর বিএনপি ও জামায়াত। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিতি থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকেই বেছে নেবে হিন্দুরা। কেননা, বাংলাদেশে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লক্ষ ৫০ হাজার, যা মোট ভোটারের ১৫ শতাংশ প্রায়।
এদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা, ভোটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে এ সময় আওয়ামী লীগের ভোটারদের কদর বেড়েছে বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্য সব দলের কাছে। বিএনপি-জামায়াতসহ নির্বাচনী লড়াইতে নামা সব দলই আওয়ামী লীগের ভোট টানতে উঠে-পড়ে লেগেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের ভোট টানতে যেসব আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন, সেটিকে ভালো চোখে দেখছেন না। বিএনপি-জামায়াতের এ কৌশলকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নিরেট আদর্শহীন রাজনীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশ্লেষকরা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি ও বুর্জোয়া রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। নিরেট আদর্শবাদী রাজনৈতিক দল ও রাজনীতি থাকলে আওয়ামী লীগের ভোট পেতে এভাবে উঠে পড়ে লাগত না।
আওয়ামী লীগের ভোট টানতে জামায়াতের কৌশল হলো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি তাদের সামনে তুলে ধরা। জামায়াত আওয়ামী লীগের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অত্যাচারিত হয়েছে বিএনপির দ্বারা। জামায়াত বলছে, তাদের কোনো নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে নজির নেই, বাড়ি পুড়িয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করার ইতিহাস নেই। ক্ষেত্রবিশেষে অনেক এলাকায় জামায়াত নিরাপত্তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে সে সুযোগ আরো বেড়ে যাবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে।
এদিকে, বিএনপি ভিন্ন একটি কৌশল নিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়া ও ভোটারদের কেন্দ্রে আসার অনুরোধ করছে। সেই কৌশলের পুরোভাগে গণভোটের ব্যাপার রয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পরাজিত করতে হলে আওয়ামী লীগের ভোটার যত বেশি আসবে তত সম্ভাবনা দেখা দেবে না ভোট জেতার। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ ভোটারদের বোঝাচ্ছে বিএনপি। বিএনপির শীর্ষ পর্যায় মনে করে, গণভোটে না যেতে উৎসাহ দিয়ে ভোটার টানা গেলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটও নিশ্চিত করা যাবে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের ভোট নেয়ার যে কৌশল গ্রহণ করে মাঠে নেমেছে সেটি আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোটাররা বিশ্বাসও করতে শুরু করেছে। দলটির অনেকেই মনে করে বিএনপি সত্যিকার অর্থে অত্যাচার-নির্যাতন বাড়িয়ে দেবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









