ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানে পুরোপুরি প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত মাঠপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের বিজয়ী দলকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সরকারকে বরণের পাশাপাশি বিদায়ের সুর বাজছে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর।
দায়িত্ব নেয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মযজ্ঞও কার্যত সমাপ্তির পথে। অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা উপদেষ্টারাও প্রস্তুতি সারছেন বিদায়ের। ইতিমধ্যে কেউ কেউ কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। জমা দিয়েছেন সরকারি গাড়িও। নিচ্ছেন সরকারি বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি। একইসঙ্গে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ও প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন সরকারকে বরণে। নতুন সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে একাধিক সূত্র জানায়।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও উপদেষ্টাদের দফতর সূত্র জানায়, অধিকাংশ উপদেষ্টাই তাদের কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তারা নতুন পাসপোর্ট নিতে সচিবালয়ের পাসপোর্ট অফিসে আবেদনও করছেন। কেউ কেউ পাসপোর্ট পেয়েও গেছেন। কোনো কোনো উপদেষ্টা সম্পদের হিসাবও জমা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। সব মিলিয়ে সচিবালয়ে চলছে বিদায়ের সুর। আবার কোনো কোনো উপদেষ্টা সরকারি বাসা গোছাচ্ছেন; মেয়াদ শেষ হলেই ছেড়ে দেবেন। কেউ কেউ বাসা ছাড়ার আবেদনও করেছেন বলে উপদেষ্টাদের দপ্তর থেকে জানা গেছে।
জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গত ৩১ জানুয়ারি তার সরকারি বাসাটি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্টও জমা দিয়েছেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন শারমীন এস মুরশিদ। তার একান্ত সচিব (পিএস) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সোমবার স্যারের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়া হচ্ছে। এরপর সবুজ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হবে। বাসা ছাড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ আলী আকবর বলেন, উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি কোনো সরকারি বাড়ি নেননি। আর সম্পদের হিসাবও জমা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের একান্ত সচিব সত্যজিত রায় দাশ বলেন, স্যারের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দেয়া হয়েছে, বাসা ছাড়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ বশিরউদ্দীন কোনো সরকারি বাড়ি কিংবা গাড়ি নেননি। তিনি এখনো তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেননি। কারণ তিনি জাপান সফরে ছিলেন। সম্পদের হিসাবের বিষয় জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, গত শুক্রবার যখন জাপানের উদ্দেশে রওনা দিই, আমি অফিসে ফোন করে বলেছি, তারা সম্পদের বিবরণী পাঠিয়ে দিয়েছে। সেটি আমার কাছে পৌঁছেছে, সেটি সই করে গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, নতুন পাসপোর্টের আবেদনও করেছেন। তিনি কোনো সরকারি বাড়ি নেননি। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সহকারী একান্ত সচিব কামরুন নাহার বলেন, স্যার কূটনৈতিক পাসপোর্ট নেননি। সরকারি বাড়িও নেননি। তাই স্যারের এগুলো ফিরিয়ে দেয়ার বিষয় নেই। আর সম্পদের হিসাব স্যার ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়ে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি দিয়ে দিয়েছি। সাধারণত জরুরি ছাড়া কোনো মিটিংয়ে যাই না। সেজন্য দিয়ে দিয়েছি। অনেকেই দিয়ে দিচ্ছে। এটা নিয়ম দিয়ে দেয়া। সালেহউদ্দিন আহমেদের পাসপোর্টের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্টও জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম সরকারি বাড়ি নেননি। তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বলে তাঁর দপ্তর থেকে জানা গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তাঁর পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। বাসা ছাড়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তাঁর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, উপদেষ্টা তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সচিবালয়ের দপ্তরে থাকা নিজের বইপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাচ্ছেন। দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরই বাসা ছেড়ে দেবেন। ঢাকায় তাঁর কোনো বাসা নেই। মেয়াদ শেষে তিনি চট্টগ্রামে চলে যাবেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ফারুক ই আজম। তার দপ্তর থেকে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সবুজ পাসপোর্টও হাতে পেয়েছেন। ফ্ল্যাটও গুছিয়ে রাখছেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। মেয়াদ শেষে তিনি সেখানেই চলে যাবেন বলে তার দপ্তর থেকে জানা গেছে।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিজের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। আমরা কোন দিকে এগোচ্ছি, সেটা যদি দেখেন, আমি বলব আমরা সফল হয়েছি।
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। একই সঙ্গে সরকারের ভেতরে অন্যদের সমর্থন না পাওয়ায় ভূমি নিবন্ধন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে পারিনি। এজন্য আমাদের মনোভাবই দায়ী। কেন সফল হননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো সমর্থন পেতে হবে। এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের আরও যারা আছেন, তাদের সমর্থন লাভ করতে পারিনি। আপনি কাকে দায়ী করছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কাউকে দায়ী করছি না। এজন্য আমাদের মনোভাবই দায়ী। সেক্ষেত্রে আমাকে দায়ী করতে হবে, কারণ আমি পারিনি। ব্যর্থতার দায়ভার আমি নিচ্ছি। ব্যাপারটা সম্পর্কে আমরা সবাই একমত হতে পারিনি বলেই এটি হয়নি। আশা করি, ভবিষ্যতে কোনো না কোনো সময় এটি সম্ভব হবে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ নিজেকে ৭০ ভাগ সফল বলে দাবি করে বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে নিজেকে ১০০-তে ৭০ নম্বর দেব। অনেক কাজ করার ছিল, কিন্তু সব করতে পারিনি। বিশেষ করে এনবিআর সংস্কার পুরোপুরি শেষ করে যেতে পারিনি। সাঙ্গপাঙ্গরা যদি ভালো না হয়, তাহলে আমি একা ভালো হয়ে কিছু করতে পারব না। সবাইকে ভালো হতে হবে।
এদিকে ভোটের আগে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ কর্মদিবস। সে কারণে উপদেষ্টারা দপ্তরের নিজস্ব জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়েছেন। বিদায় নিয়েছেন গেল দেড় বছরের সহকর্মীদের কাছ থেকে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গেল দেড় বছরে নিজেদের তৎপরতার ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) ছুটি থাকবে। এরপর শুক্র ও শনিবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসাবে বলা যায়, গতকাল মঙ্গলবারই শেষ অফিস করছেন উপদেষ্টারা। অনেকে সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর প্রথমে শপথ নেন নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এরপর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন মন্ত্রিসভার দাপ্তরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। রাষ্ট্রপতি প্রথমে সরকারপ্রধানকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৪৫ জন ধরে নিয়ে গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এজন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখার জন্য সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভিভিআইপি প্রটোকলে সব সময় কয়েকটি গাড়ি বেশি প্রস্তুত রাখতে হয়। কোনো কারণে একটি গাড়ি নষ্ট হলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গাড়ি পাঠানো যায়। সে কারণে ৫টি গাড়ি বেশি রাখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সব মিলিয়ে ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও ২০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।
জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা যেসব গাড়ি ব্যবহার করছেন, সেগুলোসহ সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে থাকা মোট ৫০টি গাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারা নতুন সরকারে শপথের আমন্ত্রণ পাবেন, তাদের বাসা থেকে বঙ্গভবনে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হবে এসব গাড়ি।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ি প্রস্তুত রাখছি। তবে ঠিক কতগুলো গাড়ি লাগবে, সেটা শপথের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আমাদের জানানো হবে। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যেমন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথের জন্য ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখতে পরিবহন পুলকে বলা হয়েছে। এই ৫০ গাড়ির মধ্যে বিলুপ্ত দ্বাদশ সংসদের কয়েকজন সদস্যের (এমপি) বিশেষ শুল্ক সুবিধায় আনা ৩০টি গাড়িও রয়েছে,যেগুলো ইতোমধ্যে রজস্ববোর্ডের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অধীন সরকারি পরিবহন অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই ৩০টি গাড়ি বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানেসরকারিযানবাহনঅধিদপ্তরের কাছে রয়েছে এসব গাড়ি।
এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিলুপ্ত দ্বাদশ সংসদের সাবেক কয়েকজন সদস্যেরবিশেষ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়িগুলো খালাস না হওয়ায় এগুলো দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম বন্দরে পড়েছিল। পড়ে থাকার কারণে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি বসে যাচ্ছিল। গাড়িগুলো ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ই-নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে নামমাত্র দর দিয়ে (১০ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ির দাম মাত্র ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত) এগুলো হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে একটি সিন্ডিকেট। এর মধ্যে ২৪টি বিলাসবহুলসহ মোট ৪৪টি গাড়ি ছিল। নিলামের শর্ত অনুযায়ী, ভিত্তিমূল্যের ৬০ শতাংশ পূর্ণ না হলেও দ্বিতীয় নিলামে প্রথম নিলাম থেকে সামান্য বেশি দর দিলেই গাড়িগুলো বিক্রি হয়ে যেত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিল সিন্ডিকেট। পরে এনবিআর নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে এবং সরকারি দপ্তরে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়।গাড়িগুলোর মধ্যে ২৬টি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার এবং চারটি টয়োটা হ্যারিয়ার রয়েছে। এগুলো ২০২৪ সালে জাপানে তৈরি ৩৩৪৬ সিসি ল্যান্ড ক্রুজার জেডএক্স মডেলের ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি রয়েছে ২৪টি, যার প্রতিটির সংরক্ষিত মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার বিকালে বিশেষ শুল্ক সুবিধায় আনা ৩০ গাড়িসহ ৫০টি গাড়ি পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এসব গাড়ি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নানা সমস্যাদেখা দিয়েছিল। এনবিআরের কাছ থেকে পাওয়ার পরএসব গাড়ির সার্ভিসিং (মেরামত) করা হয়েছে। এজন্য সরকারের ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ টাকা। গাড়িগুলোর পেছনে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা পোর্ট চার্জ দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন খরচ বহন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আমরা নতুন সরকারের শপথের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনও সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না। ১৭ বা ১৮ ফ্রেব্রুয়ারিকে ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









